জনকল্যাণ ও সামাজিক-অর্থনৈতিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় রাষ্ট্রের দায়িত্ব
সংক্ষিপ্ত সারসংক্ষেপ (TL;DR)
জনকল্যাণমূলক রাষ্ট্রের অঙ্গীকার: সামাজিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা এবং আয়, মর্যাদা, সুযোগ-সুবিধার বৈষম্য দূর করার জন্য রাষ্ট্রকে নির্দেশ দেয়।
সহজ নাগরিক ভাষায় অর্থ
ধারা ৩৮ হলো সংবিধানের ৪র্থ অংশের (নির্দেশমূলক নীতি) মূল ভিত্তি। এটি ভারতকে ঔপনিবেশিক 'পুলিশি রাষ্ট্র' থেকে একটি গণতান্ত্রিক 'জনকল্যাণমূলক রাষ্ট্রে' (Welfare State) রূপান্তরিত করেছে। ধারা ৩৮(১) রাষ্ট্রকে এমন এক সমাজব্যবস্থা গড়ে তোলার নির্দেশ দেয় যেখানে সামাজিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হবে। ৪৪তম সংশোধনী (১৯৭৮) দ্বারা সংযোজিত ধারা ৩৮(২) ধনী-দরিদ্রের ব্যবধান কমাতে এবং বিভিন্ন অঞ্চল ও পেশার মানুষের মধ্যে আয়, মর্যাদা ও সুযোগ-সুবিধার বৈষম্য হ্রাস করার নির্দেশ দেয়।
প্রধান সাংবিধানিক বিধান ও মূল বিষয়
খাদ্য নিরাপত্তা (রেশন ব্যবস্থা), গ্রামীণ কর্মসংস্থান, আবাসন ও দারিদ্র্য দূরীকরণ প্রকল্পের সাংবিধানিক ভিত্তি
শহর ও গ্রামের মধ্যে স্বাস্থ্য, শিক্ষা, ব্যাংকিং ও পরিকাঠামোগত বৈষম্য দূর করার রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব (ধারা ৩৮(২))
জনকল্যাণমূলক আইন ও প্রগতিশীল কর ব্যবস্থার সাংবিধানিক বৈধতা রক্ষার মূল ভিত্তি
ব্যতিক্রম ও যুক্তিসঙ্গত বিধিনিষেধ (সীমাবদ্ধতা)
এটি রাষ্ট্র পরিচালনার নির্দেশমূলক নীতি, যা সংসদ ও রাজ্য সরকারগুলি জনকল্যাণমূলক আইন ও বাজেটের মাধ্যমে বাস্তবায়ন করে।
দৈনন্দিন জীবনে এটি কেন গুরুত্বপূর্ণ?
রেশন দোকানের খাদ্যশস্য থেকে শুরু করে গ্রামীণ আবাসন ও জনস্বাস্থ্য প্রকল্প—প্রতিটি জনকল্যাণমূলক কর্মসূচির শিকড় রয়েছে ধারা ৩৮-এ।
আরও গভীরে পড়তে চান? সরকারি গেজেট পাঠ অথবা সুপ্রিম কোর্টের রায় ও গণপরিষদ বিতর্ক দেখুন: