কাজের ন্যায়সঙ্গত ও মানবিক পরিবেশ এবং মাতৃত্বকালীন সহায়তা (Maternity Relief)
সংক্ষিপ্ত সারসংক্ষেপ (TL;DR)
কাজের ন্যায্য ও মানবিক পরিবেশ এবং মাতৃত্বকালীন সহায়তা: কর্মক্ষেত্রে নিরাপদ ও মানবিক পরিবেশ নিশ্চিত করা এবং কর্মরত নারীদের জন্য সবেতন মাতৃত্বকালীন ছুটি (Maternity Leave) ও সহায়তা প্রদানের নির্দেশ দেয়।
সহজ নাগরিক ভাষায় অর্থ
ধারা ৪২ হলো ভারতের শ্রমজীবী নারী ও মায়েদের সাংবিধানিক সুরক্ষাকবচ। এটি রাষ্ট্রকে কর্মক্ষেত্রে ন্যায্য ও মানবিক পরিবেশ এবং 'মাতৃত্বকালীন সহায়তা' (Maternity Relief) নিশ্চিত করার নির্দেশ দেয়। এই ধারার অধীনেই 'মাতৃত্বকালীন সুবিধা আইন, ১৯৬১' (২০১৭ সালের সংশোধনীতে ২৬ সপ্তাহের পূর্ণ সবেতন মাতৃত্বকালীন ছুটি) প্রণীত হয়েছে। 'দিল্লি মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশন বনাম নারী শ্রমিক (২০০০)' মামলায় সুপ্রিম কোর্ট ঐতিহাসিক রায় দেয় যে কেবল স্থায়ী কর্মীই নয়, দিনমজুর (Daily-wage), অস্থায়ী ও চুক্তিভিত্তিক নারী কর্মীরাও মাতৃত্বকালীন ছুটির পূর্ণ অধিকারী।
প্রধান সাংবিধানিক বিধান ও মূল বিষয়
মাতৃত্বকালীন সুবিধা আইন অনুযায়ী কর্মরত নারীদের ২৬ সপ্তাহের (৬ মাস) পূর্ণ সবেতন মাতৃত্বকালীন ছুটির (Paid Maternity Leave) অধিকার
গর্ভাবস্থা বা মাতৃত্বকালীন ছুটির কারণে কোনো নারী কর্মীকে চাকরি থেকে বরখাস্ত বা পদাবনতি করা সম্পূর্ণ বেআইনি
দিনমজুর (Muster Roll), অস্থায়ী ও চুক্তিভিত্তিক নারী কর্মীদেরও মাতৃত্বকালীন ছুটি ও সুবিধা পাওয়ার সাংবিধানিক অধিকার (সুপ্রিম কোর্ট রায় ২০০০)
৫০ বা ততোধিক কর্মীবিশিষ্ট প্রতিষ্ঠানে শিশুদের জন্য ক্রেশ (Creche) সুবিধা এবং কাজে ফেরার পর নার্সিং ব্রেকের অধিকার
নিরাপদ কর্মক্ষেত্র, নির্দিষ্ট কাজের সময়, পানীয় জল ও স্বাস্থ্যসম্মত শৌচাগারের নিশ্চয়তা
ব্যতিক্রম ও যুক্তিসঙ্গত বিধিনিষেধ (সীমাবদ্ধতা)
কোনো প্রতিষ্ঠান গর্ভবতী নারী কর্মীকে মাতৃত্বকালীন ছুটি না দিলে বা ছাঁটাই করলে লেবার কমিশনার বা ধারা ২২৬-এর অধীনে সরাসরি হাইকোর্টে প্রতিকার চাওয়া যায়।
দৈনন্দিন জীবনে এটি কেন গুরুত্বপূর্ণ?
নিশ্চিত করে যে ভারতের কোনো নারীকে মাতৃত্ব এবং নিজের চাকরি বা জীবিকার মধ্যে যেকোনো একটিকে বেছে নিতে বাধ্য হতে হবে না।
আরও গভীরে পড়তে চান? সরকারি গেজেট পাঠ অথবা সুপ্রিম কোর্টের রায় ও গণপরিষদ বিতর্ক দেখুন: