মলের পেইড পার্কিং থেকে গাড়ি চুরি বা ক্ষতি: "মালিকের নিজ ঝুঁকিতে" লেখা কি আইনসিদ্ধ?
না! সুপ্রিম কোর্টের ঐতিহাসিক রায় অনুযায়ী, টাকা নিয়ে পার্কিং করালে কর্তৃপক্ষ গাড়ির সুরক্ষার জন্য দায়বদ্ধ। রসিদে "নিজ ঝুঁকিতে পার্কিং" লিখে তারা দায় এড়াতে পারে না।
- • ১. পার্কিং ফি গ্রহণ করলেই চুক্তি আইনের ১৪৮ ধারা অনুযায়ী বেইলমেন্টের আইনি দায়িত্ব বর্তায়।
- • ২. রসিদে একতরফা শর্ত ছাপিয়ে মল কর্তৃপক্ষ চুরি বা ক্ষতির আইনি দায় এড়াতে পারে না।
- • ৩. অবহেলার কারণে গাড়ি চুরি বা ভাঙচুর হলে পার্কিং ম্যানেজমেন্ট ক্ষতিপূরণ দিতে বাধ্য।
- ১. পেইড পার্কিং রসিদটি যত্নসহকারে সংরক্ষণ করুন এবং সিসিটিভি ক্যামেরার ছবি তুলে রাখুন।
- ২. তৎক্ষণাৎ ১১২ নম্বরে ফোন করে থানায় চুরির এফআইআর দায়ের করুন।
- ৩. সিসিটিভি ফুটেজ সংরক্ষণের জন্য পুলিশে আনুষ্ঠানিক আবেদন জমা দিন।
- ৪. মল কর্তৃপক্ষকে লিগ্যাল নোটিশ পাঠিয়ে কনজিউমার কোর্টে সম্পূর্ণ ক্ষতিপূরণ দাবি করুন।
ই-কমার্স জালিয়াতি: পার্সেলে সাবান বা নকল সামগ্রী পেলে দ্রুত রিফান্ড পাওয়ার উপায় কী?
ক্রেতা সুরক্ষা (ই-কমার্স) বিধিমালা ২০২০ অনুযায়ী, অনলাইন প্ল্যাটফর্ম কোনোভাবেই জালিয়াতির দায় এড়াতে পারে না। তদন্ত করে দ্রুত সম্পূর্ণ অর্থ ফেরত দেওয়া বাধ্যতামূলক।
- • ১. অনলাইন মার্কেটপ্লেস কর্তৃপক্ষ নকল পণ্যের ক্ষেত্রে নিজেদের কেবল "মধ্যস্থতাকারী" বলে দায় এড়াতে পারে না।
- • ২. অভিযোগ পাওয়ার ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে প্ল্যাটফর্মকে আনুষ্ঠানিক উত্তর দিতে হবে।
- • ৩. পার্সেল খোলার নিরবচ্ছিন্ন ভিডিও কনজিউমার ফোরামে অকাট্য প্রমাণ হিসেবে গ্রাহ্য হয়।
- ১. পার্সেলের শিপিং লেবেল ও সিল অক্ষত থাকা অবস্থায় আনবক্সিং ভিডিও রেকর্ড করুন।
- ২. শপিং অ্যাপে ছবি সহ অবিলম্বে রিটার্ন ও রিফান্ড রিকোয়েস্ট জমা দিন।
- ৩. আবেদন নাকচ করলে জাতীয় ক্রেতা সুরক্ষা হেল্পলাইন ১৯১৫-এ ফোন করুন।
- ৪. ই-দাখিল পোর্টালে (edaakhil.nic.in) ক্রেতা সুরক্ষা আদালতে অনলাইন মামলা করুন।
মাঝপথে কোচিং সেন্টার ছাড়লে: কর্তৃপক্ষ কি অগ্রিম দেওয়া বাকি ফি ফেরত দিতে অস্বীকার করতে পারে?
সম্পূর্ণ বেআইনি! সুপ্রিম কোর্ট ও সিসিপিএ নির্দেশিকা অনুযায়ী, শিক্ষার্থী মাঝপথে পড়া ছেড়ে দিলে কোচিং সেন্টার বাকি মেয়াদের অগ্রিম টাকা আটকে রাখতে পারে না। আনুপাতিক রিফান্ড দেওয়া বাধ্যতামূলক।
- • ১. ২-৩ বছরের কোর্স ফি এককালীন আদায় করা এবং ছাড়ার সুযোগ না দেওয়া বেআইনি বাণিজ্যিক কার্যকলাপ।
- • ২. কোর্স ছাড়ার আবেদন করার ১০ দিনের মধ্যে বাকি মেয়াদের আনুপাতিক অর্থ ফেরত দিতে হবে।
- • ৩. "একবার দেওয়া ফি ফেরতযোগ্য নয়" মর্মে কোনো শর্ত চুক্তি আইনে পুরোপুরি অবৈধ।
- ১. কোচিং ডিরেক্টরকে কোর্স ছাড়ার লিখিত আবেদনপত্র জমা দিন।
- ২. চিঠিতে উল্লেখ করুন: "সিসিপিএ গাইডলাইন ২০২৪ অনুযায়ী ১০ দিনের মধ্যে বাকি ফি ফেরত প্রদান করুন।\"
- ৩. ফি ফেরত না দিলে কনজিউমার হেল্পলাইন ১৯১৫-এ ডায়াল করে অভিযোগ জানান।
- ৪. জেলা ক্রেতা সুরক্ষা আদালতে অন্যায্য বাণিজ্যের বিরুদ্ধে ক্ষতিপূরণ মামলা করুন।
ট্রেন ৩ ঘণ্টার বেশি দেরি: যাত্রা বাতিল করলে কি বিনা পেনাল্টিতে ১০০% রিফান্ড পাওয়া যায়?
হ্যাঁ! রেলওয়ে বিধি অনুযায়ী যাত্রা শুরুর স্টেশনে ট্রেন ৩ ঘণ্টার বেশি দেরিতে চললে যাত্রী ভ্রমণ বাতিল করলে টিডিআর (TDR) দাখিলের মাধ্যমে সম্পূর্ণ ১০০% টিকিটের অর্থ ফেরত পান।
- • ১. যাত্রা শুরুর স্টেশনে ট্রেন ৩ ঘণ্টার বেশি দেরি হলে ভ্রমণ না করলে সম্পূর্ণ ১০০% ভাড়া ফেরত পাওয়া যায়।
- • ২. অনলাইন আইআরসিটিসি টিকিটের ক্ষেত্রে ট্রেন ছাড়ার আগেই পোর্টালে টিডিআর (TDR) ফাইল করতে হবে।
- • ৩. কাউন্টার টিকিট হলে ট্রেন ছাড়ার আগে বুকিং কাউন্টারে টিকিট জমা দিয়ে নগদ অর্থ সংগ্রহ করুন।
- ১. এনটিইএস (NTES) অ্যাপে ট্রেনের লাইভ স্ট্যাটাস দেখে ৩ ঘণ্টার বেশি বিলম্ব নিশ্চিত করুন।
- ২. আইআরসিটিসি অ্যাপে যান -> File TDR -> কারণ নির্বাচন করুন: "Train Late More Than Three Hours and Passenger Not Traveled"।
- ৩. ট্রেন স্টেশন ছাড়ার পূর্বেই টিডিআর অনলাইনে সাবমিট করুন।
- ৪. ৫ থেকে ৭ কার্যদিবসের মধ্যে ব্যাংকে ১০০% অর্থ জমা হবে।
ডিএনডি থাকা সত্ত্বেও লোন ও ক্রেডিট কার্ডের স্প্যাম কল: কড়া ব্যবস্থা নেওয়ার উপায় কী?
ট্রাই (TRAI) নিয়মাবলী অনুযায়ী ডিএনডি নম্বরে বাণিজ্যিক স্প্যাম কল করা সম্পূর্ণ বেআইনি। নিয়ম ভাঙলে কলারের সিম সংযোগ স্থায়ীভাবে বিচ্ছিন্ন করা হয় এবং জরিমানা করা হয়।
- • ১. রাত ৯টা থেকে সকাল ৯টার মধ্যে কোনো বাণিজ্যিক ফোন কল করা যাবে না।
- • ২. ডিএনডি অ্যাক্টিভ নম্বরে কল করলে সংশ্লিষ্ট আর্থিক প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কড়া জরিমানা প্রযোজ্য।
- • ৩. ৩টি প্রমাণিত অভিযোগের পর সংশ্লিষ্ট টেলি মার্কেটারের সমস্ত সিম ১ বছরের জন্য ব্ল্যাকলিস্ট করা হয়।
- ১. ১৯০৯ নম্বরে "START 0" লিখে এসএমএস পাঠিয়ে ডিএনডি সক্রিয় রাখুন।
- ২. কল আসার ৩ দিনের মধ্যে ১৯০৯-এ বিস্তারিত লিখে এসএমএস অভিযোগ পাঠান।
- ৩. অথবা "TRAI DND 3.0" অফিসিয়াল অ্যাপের মাধ্যমে এক ক্লিকে রিপোর্ট করুন।
- ৪. টেলিকম কোম্পানি অভিযোগ খতিয়ে দেখে নম্বর বন্ধ করবে এবং রিপোর্ট পাঠাবে।
বিমানযাত্রায় ব্যাগেজ বা লাগেজ হারালে বা ভাঙলে: এয়ারলাইন্সের থেকে আইনি ক্ষতিপূরণ পাওয়ার নিয়ম কী?
ডিজিসিএ বিধি ও আন্তর্জাতিক বিমান পরিবহন আইন অনুযায়ী, লাগেজ হারিয়ে গেলে বা ভেঙে গেলে এয়ারলাইন্স ঘরোয়া বিমানে ২০,০০০ টাকা এবং আন্তর্জাতিক বিমানে সর্বোচ্চ প্রায় ১.৪ লক্ষ টাকা পর্যন্ত ক্ষতিপূরণ দিতে বাধ্য।
- • ১. বেল্টে লাগেজ না এলে এয়ারপোর্ট থেকে বের হওয়ার আগেই অ্যারাইভাল কাউন্টারে রিপোর্ট করুন।
- • ২. লাগেজ দেরিতে এলে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিস কেনার জন্য এয়ারলাইন্স দৈনিক ভাতা দিতে বাধ্য।
- • ৩. ২১ দিনের মধ্যে লাগেজ উদ্ধার না হলে সম্পূর্ণ ক্ষতিপূরণ প্রদান করা বাধ্যতামূলক।
- ১. এয়ারলাইন্স কাউন্টারে গিয়ে প্রোপার্টি ইরেগুলারিটি রিপোর্ট (PIR) নম্বর সংগ্রহ করুন।
- ২. বোর্ডিং পাসে লাগানো ব্যাগেজ স্টিকারটি যত্ন করে রাখুন।
- ৩. ব্যাগে থাকা জিনিসপত্রের তালিকা তৈরি করে ৭ দিনের মধ্যে এয়ারলাইন্সকে মেল করুন।
- ৪. ন্যায্য ক্ষতিপূরণ না দিলে কনজিউমার ফোরামে মামলা দায়ের করুন।
জিম বন্ধ হয়ে গেলে বা দূরে সরলে: জিম কর্তৃপক্ষ কি বাকি মেয়াদের অগ্রিম ফি ফেরত দিতে অস্বীকার করতে পারে?
সম্পূর্ণ বেআইনি! ক্রেতা সুরক্ষা আইন ২০১৯ অনুযায়ী জিম বন্ধ হয়ে গেলে বা অন্য জায়গায় চলে গেলে বাকি মেয়াদের অগ্রিম ফি আটকে রাখা বেআইনি বাণিজ্যিক কার্যকলাপ। সম্পূর্ণ অর্থ ফেরত দেওয়া বাধ্যতামূলক।
- • ১. "ফি কোনো অবস্থাতেই ফেরতযোগ্য নয়" মর্মে একতরফা চুক্তি ক্রেতা সুরক্ষা আইনে অকার্যকর।
- • ২. জিম বন্ধের ১৪ দিনের মধ্যে অব্যবহৃত সময়ের সম্পূর্ণ অর্থ ফেরত দিতে হবে।
- • ৩. অগ্রিম টাকা নিয়ে জিম বন্ধ করে মালিক গা ঢাকা দিলে BNS ৩১৮ ধারায় প্রতারণার মামলা হবে।
- ১. জিম মেম্বারশিপের রসিদ ও ব্যাংকের পেমেন্ট ট্রানজ্যাকশন হিস্ট্রি প্রমাণ হিসেবে রাখুন।
- ২. মালিককে ৭ দিনের সময় দিয়ে বাকি ফি রিফান্ডের আনুষ্ঠানিক লিগ্যাল নোটিশ দিন।
- ৩. ন্যাশনাল কনজিউমার হেল্পলাইন ১৯১৫-এ ফোন করে অবিলম্বে অভিযোগ নথিভুক্ত করুন।
- ৪. ই-দাখিল পোর্টালে কনজিউমার ফোরামে মামলা করে সম্পূর্ণ অর্থ ও ক্ষতিপূরণ আদায় করুন।
সুপারমার্কেট মেয়াদোত্তীর্ণ খাদ্য বা শিশু খাদ্য বিক্রি করলে: এফএসএসএআই (FSSAI) আইনে কী শাস্তি?
খাদ্য নিরাপত্তা ও মানক আইন ২০০৬ অনুযায়ী মেয়াদোত্তীর্ণ খাবার বা শিশুখাদ্য বিক্রি করা কঠোর শাস্তিযোগ্য অপরাধ। এতে ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত জরিমানা এবং ৭ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড হতে পারে।
- • ১. কোনো সুপারমার্কেট কোনো ছাড় বা অফারের নাম দিয়েও মেয়াদোত্তীর্ণ পণ্য বিক্রি করতে পারে না।
- • ২. এই খাবার খেয়ে কেউ অসুস্থ হলে বিক্রেতার বিরুদ্ধে জামিন অযোগ্য ধারায় মামলা হবে।
- • ৩. ফুড সেফটি অফিসার তাৎক্ষণিকভাবে দোকানটি সিল করে লাইসেন্স বাতিল করতে পারেন।
- ১. ক্রয়ের রসিদ বা বিল সংরক্ষণ করুন এবং পণ্যের মেয়াদোত্তীর্ণ তারিখ ও ব্যাচ নম্বরের ছবি তুলুন।
- ২. প্যাকেটটি ফেলবেন না, প্রমাণ হিসেবে মূল মোড়কে সংরক্ষণ করুন।
- ৩. এফএসএসএআই পোর্টাল (foscos.fssai.gov.in)-এ অনলাইন ফুড ইন্সপেক্টর রিপোর্ট জমা দিন।
- ৪. ক্রেতা সুরক্ষা আদালতে মামলা করে ক্ষতিপূরণ ও শাস্তির দাবি করুন।