ভ্রমণকালে নারীর বিরুদ্ধে অপরাধ: ভারতের যেকোনো থানায় কি জিরো এফআইআর দায়ের করা যায়?
হ্যাঁ! স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের নির্দেশ ও বিএনএসএস ১৭৩(১) ধারা অনুযায়ী অপরাধ যেখানেই ঘটুক না কেন, নারী ভারতের যেকোনো থানায় "জিরো এফআইআর" করতে পারেন। এলাকা নেই বলে পুলিশ ফিরিয়ে দিতে পারে না।
- • ১. জিরো এফআইআরে কোনো নির্দিষ্ট নম্বর না দিয়ে '০' নম্বরে তৎক্ষণাৎ নথিভুক্ত করা হয়।
- • ২. প্রাথমিক ডাক্তারি পরীক্ষা ও বয়ান নিয়ে ওই থানা সংশ্লিষ্ট উপযুক্ত থানায় কেস ফাইল পাঠিয়ে দেয়।
- • ৩. জিরো এফআইআর নিতে অস্বীকারকারী অফিসারের ২ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড হতে পারে।
- ১. নিকটস্থ থানায় গিয়ে ওমেন হেল্প ডেস্ক বা ডিউটি অফিসারকে খুঁজুন।
- ২. বলুন: "বিএনএসএস ১৭৩(১) ধারা অনুযায়ী আমার জিরো এফআইআর নথিভুক্ত করে সিলমোহর সহ রসিদ দিন।\"
- ৩. নারী নির্যাতনের ঘটনায় বয়ান অবশ্যই মহিলা পুলিশ অফিসার দ্বারা রেকর্ড হতে হবে।
- ৪. থানা ছাড়ার আগেই বিনামূল্যে জিরো এফআইআরের সার্টিফায়েড কপি সংগ্রহ করুন।
বৈবাহিক বিচ্ছেদ বা ডিভোর্স: স্ত্রীর নিজের স্ত্রীধনের (স্বর্ণালঙ্কার ও উপহার) ওপর কি একক মালিকানা থাকে?
একক ও নিরঙ্কুশ মালিকানা! সুপ্রিম কোর্টের প্রতিভা রানী রায় অনুযায়ী বিয়ের উপহার ও অলঙ্কার (স্ত্রীধন) শুধুই নারীর ব্যক্তিগত সম্পত্তি। শ্বশুরবাড়ির লোকজন তা আটকে রাখলে তা ফৌজদারি অপরাধ।
- • ১. স্ত্রীধনের মধ্যে বিয়ের সমস্ত সোনা, গয়না, দান সামগ্রী ও উপহার অন্তর্ভুক্ত।
- • ২. স্বামী বা শ্বশুরবাড়ির লোকেরা এর কেবল অছি বা ট্রাস্টি, তাদের কোনো মালিকানা নেই।
- • ৩. চাওয়ামাত্র স্ত্রীধন ফেরত না দিলে BNS ৩১৬ ধারায় ৩ বছরের সশ্রম কারাদণ্ডের বিধান আছে।
- ১. সমস্ত গয়নার রসিদ ও বিয়ের ছবি সহ স্ত্রীধনের একটি পূর্ণাঙ্গ তালিকা তৈরি করুন।
- ২. আইনজীবীর মাধ্যমে ১৫ দিনের সময় দিয়ে স্ত্রীধন ফেরতের লিগ্যাল নোটিশ পাঠান।
- ৩. ফেরত না দিলে গার্হস্থ্য হিংসা প্রতিরোধ আইনের ১২ ধারায় ম্যাজিস্ট্রেট কোর্টে আবেদন করুন।
- ৪. থানায় BNS ৩১৬ ধারায় বিশ্বাসভঙ্গের আনুষ্ঠানিক এফআইআর দায়ের করুন।
কর্মস্থলে যৌন হেনস্থা: সহকর্মী কি নির্যাতিতার হয়ে পশ (POSH) কমিটির কাছে অভিযোগ জানাতে পারে?
হ্যাঁ! পশ আইন ২০১৩ অনুযায়ী নির্যাতিতা শারীরিক বা মানসিকভাবে অপারগ হলে তার লিখিত অনুমতি সাপেক্ষে কোনো সহকর্মী বা বন্ধু আইসিসি (ICC) কমিটির কাছে অভিযোগ দাখিল করতে পারে।
- • ১. সহকর্মী অভিযোগ পাঠিয়েছে এই অজুহাতে আইসিসি কমিটি কোনো অভিযোগ বাতিল করতে পারে না।
- • ২. কমিটি ৭ দিনের মধ্যে তদন্ত শুরু করতে এবং ৯০ দিনের মধ্যে চূড়ান্ত রিপোর্ট দিতে বাধ্য।
- • ৩. প্রতিশোধমূলক ব্যবস্থা বা চাকরিচ্যুতির বিরুদ্ধে পশ আইনের ১২ ধারায় পূর্ণ আইনি সুরক্ষা দেওয়া হয়েছে।
- ১. ঘটনার তারিখ, সময় ও সাক্ষীদের নাম উল্লেখ করে আইসিসি ইমেলে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ পাঠান।
- ২. সহকর্মী হিসেবে আবেদন করলে নির্যাতিতার লিখিত সম্মতিপত্র যুক্ত করুন।
- ৩. ধারা ১২ অনুযায়ী অভিযুক্তের বদলি বা ওয়ার্ক ফ্রম হোমের মতো অন্তর্বর্তীকালীন সুরক্ষার আবেদন করুন।
- ৪. কোম্পানি ব্যবস্থা না নিলে জেলাশাসকের অধীনে লোকাল কমপ্লেন্টস কমিটিতে (LCC) আবেদন করুন।
ভারতে সিঙ্গেল প্যারেন্ট দত্তক: অবিবাহিত নারী বা পুরুষ কি আইনসম্মতভাবে সন্তান দত্তক নিতে পারেন?
হ্যাঁ! জুভেনাইল জাস্টিস আইন ও কারা (CARA) নিয়মাবলী অনুযায়ী অবিবাহিত নারী ছেলে বা মেয়ে যেকোনো সন্তান দত্তক নিতে পারেন, তবে অবিবাহিত পুরুষ কেবল পুত্রসন্তান দত্তক নেওয়ার অধিকারী।
- • ১. অবিবাহিত বা সিঙ্গেল নারী ছেলে বা মেয়ে যেকোনো সন্তান দত্তক নেওয়ার পূর্ণ অধিকারী।
- • ২. অবিবাহিত পুরুষ কেবল পুত্রসন্তান দত্তক নিতে পারবেন (কন্যা সন্তান দত্তক আইনত নিষিদ্ধ)।
- • ৩. দত্তক গ্রহণকারীর বয়স কমপক্ষে ২৫ বছর এবং নিয়মিত আর্থিক সংস্থান থাকা প্রয়োজন।
- ১. কেন্দ্রীয় সরকারি দত্তক পোর্টাল কারা (cara.wcd.gov.in)-এ অনলাইন নাম নথিভুক্ত করুন।
- ২. আধার, আয়ের প্রমাণপত্র ও মেডিকেল সার্টিফিকেট আপলোড করুন।
- ৩. অনুমোদিত সমাজকল্যাণ সংস্থা ৩ মাসের মধ্যে হোম স্টাডি রিপোর্ট প্রস্তুত করবে।
- ৪. জেলাশাসক (DM) চূড়ান্ত দত্তক আদেশ প্রদান করে আইনি অভিভাবকত্ব বহাল করবেন।
ডিভোর্সের সময় সন্তানের কাস্টডি: ৫ বছরের কম বয়সী শিশুর কাস্টডি আইনত কার কাছে থাকে?
আইন অনুযায়ী ৫ বছরের কম বয়সী শিশুর কাস্টডি সাধারণত মায়ের কাছেই থাকবে। আদালতের কাছে বাবা-মায়ের দাবির চেয়ে "শিশুর সার্বিক কল্যাণ" (Welfare of Child) সবসময় অগ্রাধিকার পায়।
- • ১. ৫ বছরের নিচের শিশুর শারীরিক ও মানসিক বিকাশের জন্য মায়ের কাছে থাকার আইনি অগ্রাধিকার রয়েছে।
- • ২. আদালতের নির্দেশ ছাড়া বাবা বা আত্মীয়রা জোর করে শিশুকে মায়ের কোল থেকে ছিনিয়ে নিতে পারে না।
- • ৩. অপর অভিভাবক নিয়মিত দেখা করার (Visitation Rights) ও ভিডিও কলে কথা বলার আইনি অধিকার রাখেন।
- ১. সন্তানকে জোর করে কেড়ে নিলে হাইকোর্টে অবিলম্বে হেবিয়াস কর্পাস পিটিশন দাখিল করুন।
- ২. গার্হস্থ্য হিংসা প্রতিরোধ আইনের ২১ ধারায় অন্তর্বর্তীকালীন কাস্টডি চেয়ে আবেদন করুন।
- ৩. ফ্যামিলি কোর্টে বাচ্চার স্বাস্থ্য ও শিক্ষার অনুকূল পরিবেশ তুলে ধরে স্থায়ী কাস্টডির মামলা করুন।
- ৪. সন্তানের মানসিক মঙ্গলের জন্য অপর অভিভাবকের সাথে নিয়মিত দেখা করার সময়সূচী নির্ধারণ করুন।
নাইট শিফটে কর্মরত নারী: অফিস থেকে বাড়ি পর্যন্ত জিপিএস ক্যাব ও নিরাপত্তা দেওয়া কি বাধ্যতামূলক?
বাধ্যতামূলক! আইন অনুযায়ী সন্ধ্যে ৭টা থেকে সকাল ৬টার মধ্যে নারী কর্মীদের ডিউটি দিলে সংস্থাকে অবশ্যই বিনামূল্যে জিপিএস যুক্ত ক্যাব ও সিকিউরিটি গার্ড দিয়ে বাড়ির দরজায় নিরাপদে পৌঁছে দিতে হবে।
- • ১. নাইট শিফটে মহিলা কর্মীদের ব্যক্তিগত ব্যবস্থায় যাতায়াত করতে বাধ্য করা সম্পূর্ণ বেআইনি।
- • ২. ক্যাবে সক্রিয় জিপিএস ট্র্যাকিং ও প্যানিক এসওএস (SOS) বোতাম থাকা বাধ্যতামূলক।
- • ৩. গাড়িতে কোনো নারী একা থাকলে সঙ্গে সার্বক্ষণিক সিকিউরিটি গার্ড থাকা আইনত বাধ্যতামূলক।
- ১. কোম্পানি রাতের গাড়ি না দিলে এইচআর ও ম্যানেজমেন্টকে নিয়ম উল্লেখ করে ইমেল করুন।
- ২. ড্রাইভারের পুলিশ ভেরিফিকেশন ও জিপিএস ট্র্যাকিং যাচাই করে গাড়িতে উঠুন।
- ৩. রাতে বিপদে পড়লে অবিলম্বে ১১২ নম্বরে ফোন করে উইমেন পুলিশ এসকর্টের সাহায্য নিন।
- ৪. শ্রম দপ্তরে প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে নিরাপত্তা বিধি ভঙ্গের আনুষ্ঠানিক নালিশ জানান।
ফ্ল্যাটে পোষা কুকুর বা বেড়াল: আবাসন সমিতি (RWA) কি পোষ্য রাখা বা লিফট ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা দিতে পারে?
সম্পূর্ণ বেআইনি! ভারতীয় অ্যানিম্যাল ওয়েলফেয়ার বোর্ড ও হাইকোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী আবাসন সমিতি পোষা প্রাণী রাখা নিষিদ্ধ করতে পারে না বা লিফটের জন্য আলাদা ফি চাইতে পারে না।
- • ১. সাধারণ সভায় ১০০% সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকলেও আবাসন সমিতি পোষ্য নিষিদ্ধের কোনো নিয়ম করতে পারে না।
- • ২. পোষা কুকুর সাধারণ লিফট ব্যবহার করতে পারবে, সিঁড়ি দিয়ে ওঠানামা করতে বাধ্য করা বেআইনি।
- • ৩. কুকুরের ডাক কোনো ফৌজদারি অপরাধ নয়; তবে সাধারণ জায়গায় বেল্ট পরিয়ে রাখা মালিকের দায়িত্ব।
- ১. সোসাইটির নোটিশের উত্তরে অ্যানিম্যাল ওয়েলফেয়ার বোর্ডের সরকারি সার্কুলারটি যুক্ত করে উত্তর দিন।
- ২. পোষ্যকে পুরসভায় রেজিস্টার করুন এবং রুটিন ভ্যাকসিনের সার্টিফিকেট প্রস্তুত রাখুন।
- ৩. সমিতি জোরজুলুম করলে থানায় পশু নির্যাতন প্রতিরোধ আইনে এফআইআর দায়ের করুন।
- ৪. ফ্ল্যাটে শান্তিতে বসবাসের অধিকার বজায় রাখতে সিভিল কোর্ট থেকে নিষেধাজ্ঞা (Injunction) নিন।
বিল্ডার ফ্ল্যাট হস্তান্তরে বছরের পর বছর দেরি করলে: রেরা (RERA) থেকে ক্ষতিপূরণ ও সুদ পাবেন কীভাবে?
রেরা (RERA) আইনের ১৮ ধারা অনুযায়ী বিল্ডার নির্দিষ্ট সময়ে ফ্ল্যাট দিতে ব্যর্থ হলে ক্রেতা সম্পূর্ণ টাকা সুদসহ ফেরত নেওয়ার অথবা ফ্ল্যাট না পাওয়া পর্যন্ত মাসিক সুদ পাওয়ার অধিকারী।
- • ১. বিল্ডারের দেরির জন্য ক্রেতা এসবিআই মার্জিনাল কস্ট অব ল্যান্ডিং রেট (MCLR) + ২% হারে মাসিক সুদ পাবেন।
- • ২. ক্রেতা চাইলে প্রকল্প থেকে সরে এসে সম্পূর্ণ মূলধন ও ক্ষতিপূরণ দাবি করতে পারেন।
- • ৩. ক্রেতার স্বার্থবিরোধী একতরফা বিল্ডার চুক্তি আদালত সরাসরি বাতিল করে দেয়।
- ১. রেজিস্টার্ড ফ্ল্যাট বুকিং চুক্তিতে উল্লেখিত নির্দিষ্ট হস্তান্তরের তারিখটি পরীক্ষা করুন।
- ২. রাজ্য রেরা পোর্টালে গিয়ে প্রোমোটারের অনুমোদিত সময়সীমা যাচাই করুন।
- ৩. রেরা আইনের ৩১ ধারায় অনলাইনে ক্ষতিপূরণ ও মাসিক সুদের মামলা দায়ের করুন।
- ৪. রেরা আদালত আদেশ দিলে জেলাশাসকের মাধ্যমে রিকভারি সার্টিফিকেট জারি করে অর্থ আদায় করা হয়।