পুলিশ কি নির্যাতন করে জোরপূর্বক স্বীকারোক্তি বা সাদা কাগজে সই করাতে পারে?
না! পুলিশের কাছে দেওয়া স্বীকারোক্তি আদালতে প্রমাণ হিসেবে গ্রাহ্য নয় এবং আপনার নীরব থাকার মৌলিক অধিকার রয়েছে।
- • সংবিধানের অনুচ্ছেদ ২০(৩) অনুযায়ী কাউকে নিজের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিতে বাধ্য করা যায় না।
- • নারকো টেস্ট বা পলিগ্রাফ জোর করে করা অসাংবিধানিক।
- শান্ত থাকুন এবং ম্যাজিস্ট্রেটের সামনেই বয়ান দেওয়ার অধিকার বজায় রাখুন।
- সাদা কাগজে সই করবেন না এবং নির্যাতনের কথা কোর্টে বিচারককে জানান।
পুলিশ কি সাধারণ গ্রেফতারির সময় প্রকাশ্যে হাতকড়া পরাতে পারে?
না! সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী সাধারণ অভিযুক্তকে হাতকড়া পরানো অসাংবিধানিক ও মানবাধিকারের পরিপন্থী।
- • সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী ম্যাজিস্ট্রেটের পূর্বানুমতি ছাড়া কাউকে হাতকড়া পরানো মানবাধিকারের লঙ্ঘন।
- সুপ্রিম কোর্টের রায়ের উল্লেখ করে হাতকড়া পরানোর বিরোধিতা করুন।
বাড়িওয়ালা কি ভাড়াটের জিনিসপত্র ফেলে দিতে পারে, দরজায় তালা দিতে পারে বা জল-বিদ্যুৎ বন্ধ করতে পারে?
একদমই না! আইনি নোটিশ ও আদালতের নির্দেশ ছাড়া বাড়িওয়ালা জোর করে উচ্ছেদ বা জল-বিদ্যুৎ বন্ধ করতে পারে না।
- • ভাড়া বকেয়া থাকলেও বাড়িওয়ালা জল বা বিদ্যুৎ কাটতে পারে না। এটি রেন্ট কন্ট্রোল আইনে দণ্ডনীয় অপরাধ।
- জোরজবরদস্তি করলে সাথে সাথে ১১২ নম্বরে ফোন করুন এবং রেন্ট কন্ট্রোলারের দ্বারস্থ হন।
বেসরকারি হাসপাতাল কি দুর্ঘটনাগ্রস্ত রোগীকে ফিরিয়ে দিতে পারে বা আগে পুলিশ ক্লিয়ারেন্স দাবি করতে পারে?
না! সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী যেকোনো সরকারি বা বেসরকারি হাসপাতাল পুলিশ রিপোর্টের অপেক্ষা না করে জরুরি চিকিৎসা দিতে বাধ্য।
- • সুপ্রিম কোর্টের পরমানন্দ কাটারা রায়ের ভিত্তিতে জীবন রক্ষা সর্বাগ্রে; কোনো হাসপাতাল চিকিৎসা অস্বীকার করতে পারে না।
- হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের কথা মনে করিয়ে দিন এবং প্রয়োজনে ১১২ নম্বরে জানান।
আপনি কি জনসমক্ষে কর্তব্যরত পুলিশকর্মী বা সরকারি অফিসারের কাজের ভিডিও রেকর্ড করতে পারেন?
হ্যাঁ! জনসমক্ষে কর্তব্যরত সরকারি কর্মীর ভিডিও রেকর্ড করা নাগরিকের সাংবিধানিক অধিকার (কাজে বাধা না দিয়ে)।
- • জনসমক্ষে দায়িত্ব পালনকারী অফিসারের কাজ ক্যামেরাবন্দি করা তথ্য জানার ও মতপ্রকাশের অধিকারের অংশ।
- নিরাপদ দূরত্বে দাঁড়িয়ে রেকর্ড করুন এবং ভদ্রভাবে বলুন আপনি কাজে বাধা দিচ্ছেন না।
মালিক যদি বেতন আটকে রাখে বা বিনা বেতনে জোর করে অতিরিক্ত কাজ করায় তবে আপনার কী অধিকার?
বেতন না দেওয়া বা ন্যূনতম মজুরির চেয়ে কম দেওয়া সংবিধানের অনুচ্ছেদ ২৩ অনুযায়ী বেগার বা জোরপূর্বক শ্রমের সমান অপরাধ।
- • সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী বেতন আটকে রাখা বা সার্টিফিকেট কেড়ে নেওয়া সংবিধানের ২৩ অনুচ্ছেদের লঙ্ঘন।
- লেবার কমিশনারের কাছে অভিযোগ দায়ের করুন এবং বকেয়া আদায়ের আবেদন জানান।
নাগরিকদের কি শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ করার ও প্ল্যাকার্ড ধরার সাংবিধানিক অধিকার রয়েছে?
হ্যাঁ! অস্ত্রহীন শান্তিপূর্ণ সমাবেশ ও প্রতিবাদের অধিকার অনুচ্ছেদ ১৯(১)(b) অনুযায়ী ভারতীয় গণতন্ত্রের অন্যতম মূল স্তম্ভ।
- • শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ মৌলিক অধিকার। যথাযথ কারণ ছাড়া ১৪৪ ধারা জারি করা অসাংবিধানিক।
- সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ সমাবেশ বজায় রাখুন এবং প্রয়োজনে হাইকোর্টে রিট দায়ের করুন।
কোনো নাগরিক যদি আদালতে আইনজীবীর ফি দিতে অসমর্থ হন তবে কী উপায়?
অনুচ্ছেদ ৩৯A অনুযায়ী সরকার আদালতে বিনামূল্যে সরকারি আইনজীবী দিতে আইনত বাধ্য।
- • নাগরিকদের সুবিচার পাওয়ার সুবিধার্থে নালসা (NALSA) বিনামূল্যে প্যানেল আইনজীবী প্রদান করে।
- জাতীয় লিগ্যাল হেল্পলাইন ১৫১০০-তে যোগাযোগ করুন বা সরাসরি আদালতে বিচারকের কাছে বিনামূল্যে আইনজীবীর আবেদন করুন।