I
যে ক্যালিগ্রাফার কোনো পারিশ্রমিক নেননি, চেয়েছিলেন কেবল নাম
“কোনো পারিশ্রমিক ছাড়াই ৬ মাসে ৩০৩টি কলমের নিব দিয়ে সম্পূর্ণ সংবিধান হাতে লেখা হয়েছিল।”
ভারতের মূল সংবিধান কোনো মেশিনে টাইপ বা ছাপা হয়নি; এটি সম্পূর্ণ হাতে লিখেছিলেন প্রখ্যাত ক্যালিগ্রাফার প্রেমবিহারী নারায়ণ রায়জাদা। প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহেরু পারিশ্রমিকের কথা জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেছিলেন: "আমার কোনো পারিশ্রমিকের প্রয়োজন নেই। ঈশ্বরের কৃপায় আমার সব আছে। শুধু একটাই অনুরোধ—সংবিধানের প্রতিটি পৃষ্ঠায় আমার নাম এবং শেষ পৃষ্ঠায় আমার সাথে আমার পিতামহের নাম থাকবে।"
II
শান্তিনিকেতনের শিল্পীদের তুলিতে ৫০০০ বছরের ঐতিহ্য
“প্রাকৃতিক পাথুরে ও ভেষজ রঙে আঁকা ২২টি বিশেষ চিত্র যা ভারতীয় সভ্যতার প্রতিটি যুগকে চিত্রিত করে।”
বিশ্বভারতী শান্তিনিকেতনের কলা ভবনের প্রধান নন্দলাল বসু এবং তাঁর শিষ্যরা (ব্যৌহার রামমনোহর সিনহা সহ) প্রতিটি পৃষ্ঠার অলঙ্করণ করেছিলেন। এই চিত্রে ধরা পড়েছে ভারতের ৫০০০ বছরের ইতিহাস—মহেঞ্জোদারোর সিলমোহর, বৈদিক আশ্রম, রামের অযোধ্যা প্রত্যাবর্তন, বুদ্ধ, মহাবীর, আকবরের দরবার, শিবাজী, রানি লক্ষ্মীবাঈ এবং গান্ধীর ডান্ডি পদযাত্রা।
III
সংসদ ভবনে হিলিয়াম চেম্বারে সংরক্ষিত মূল পাণ্ডুলিপি
“শত শত বছর অক্ষত রাখতে ২০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা ও নিষ্ক্রিয় হিলিয়ামে সুরক্ষিত রাখা হয়েছে।”
সংবিধানের মূল পাণ্ডুলিপির প্রতিটি কপির ওজন প্রায় ১৩ কেজি এবং পরিমাপ ১৬x২২ ইঞ্চি। পার্চমেন্ট কাগজ, সোনালী কারুকাজ ও কালি দিল্লির আর্দ্রতা ও জারণ থেকে রক্ষা করতে সংসদ ভবনের গ্রন্থাগারে বিশেষ তাপ-নিয়ন্ত্রিত খাঁটি হিলিয়াম গ্যাসে ভরা কাচের পাত্রে সিল করে রাখা হয়েছে।
IV
২৪ জানুয়ারি ১৯৫০-এর বৃষ্টি: এক শুভ সংকেত
“বাইরে যখন বৃষ্টি ঝরছিল, ভেতরে ২৮৪ জন প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ইংরেজি ও হিন্দি উভয় কপিতে সই করেন।”
১৯৫০ সালের ২৪ জানুয়ারি ঐতিহাসিক সংবিধানে স্বাক্ষরের জন্য গণপরিষদের শেষ অধিবেশন বসে। যখন ২৮৪ জন সদস্য স্বাক্ষর করতে এগিয়ে আসছিলেন, তখন নয়াদিল্লিতে অকাল বৃষ্টি শুরু হয়। গণপরিষদের সদস্যরা এটিকে নতুন প্রজাতন্ত্রের জন্য শুভ সংকেত ও আশীর্বাদ বলে স্বাগত জানিয়েছিলেন।
V
১৫ জন দূরদর্শী নারী যাঁরা গড়ে তুলেছিলেন প্রজাতন্ত্র
“পশ্চিমী দেশগুলোর বহু দশক আগেই ভারতের প্রথম দিন থেকেই নারীদের সমান ভোটাধিকার নিশ্চিত করেছিলেন।”
গণপরিষদের ২৯৯ জন সদস্যের মধ্যে ১৫ জন তেজস্বী নারী ছিলেন। হংসা মেহতা লিঙ্গসমতার লড়াই লড়েন, রাজকুমারী অমৃত কৌর স্বাস্থ্য ব্যবস্থার ভিত্তি দেন, দাক্ষায়ণী ভেলায়ুধন একমাত্র দলিত নারী সদস্য হিসেবে অস্পৃশ্যতা দূরীকরণে জোরালো বক্তব্য রাখেন, এবং সুচেতা কৃপালানী স্বাধীনতার রাতে বন্দে মাতরম্ গেয়েছিলেন।
VI
মানব ইতিহাসের দীর্ঘতম লিখিত সংবিধান
“আমেরিকান সংবিধানের চেয়ে প্রায় ৩০ গুণ দীর্ঘ, যা ভারতের বিপুল বৈচিত্র্যকে ধারণ করে।”
বিশ্বের যে কোনো সার্বভৌম দেশের মধ্যে ভারতের সংবিধানই দীর্ঘতম লিখিত সংবিধান। ১৯৪৯ সালে গ্রহণের সময় এতে প্রস্তাবনা, ২২টি অংশে ৩৯৫টি অনুচ্ছেদ ও ৮টি তফসিল ছিল, যার মোট শব্দসংখ্যা প্রায় ১,৪৫,০০০। বর্তমানে এটি ২৫টি অংশ ও ১২টি তফসিলে ৪৪৮টির বেশি অনুচ্ছেদে সমৃদ্ধ। তুলনায় আমেরিকার সংবিধানে মাত্র ৭টি অনুচ্ছেদ এবং ৪৫০০-র কম শব্দ রয়েছে।
VII
২ বছর, ১১ মাস এবং ১৮ দিনের এক অনন্য সাধনা
“তৎকালীন সময়ে এই ঐতিহাসিক সংবিধান প্রণয়নে মোট প্রায় ৬.৪ কোটি টাকা ব্যয় হয়েছিল।”
গণপরিষদের প্রথম অধিবেশন শুরু হয়েছিল ৯ ডিসেম্বর ১৯৪৬ তারিখে, এবং সম্পূর্ণ সংবিধান চূড়ান্ত করতে সময় লেগেছিল ঠিক ২ বছর, ১১ মাস ১৮ দিন। এই সময়ে ১৬৫ দিনব্যাপী ১১টি অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়। ড. বি. আর. আম্বেদকরের খসড়া কমিটি ৭,৬০০টির বেশি সংশোধনী পর্যালোচনা করে এবং ২,৪৭৩টি সংশোধনী নিয়ে অনুচ্ছেদ ধরে ধরে বিতর্ক করে।
VIII
হিন্দি ক্যালিগ্রাফির শিল্পী: বসন্ত কৃষ্ণ বৈদ্য
“১৯৫০ সালের ২৪ জানুয়ারি সকল সদস্য ইংরেজি এবং হিন্দি উভয় মূল কপিতেই স্বাক্ষর করেছিলেন।”
ইংরেজি কপিটি যেমন প্রেমবিহারী রায়জাদা লিখেছিলেন, তেমনই হিন্দি মূল কপিটি সুন্দর দেবনাগরী হরফে নিজ হাতে লিখেছিলেন বসন্ত কৃষ্ণ বৈদ্য। হিন্দি কপির চমৎকার বর্ডার এবং অলঙ্করণ সম্পন্ন করেছিলেন শান্তিনিকেতনের ব্যৌহার রামমনোহর সিনহা।
IX
বিশ্বজনীন প্রজ্ঞা, ভারতীয় আত্মা: সেরা উপাদানের সমন্বয়
“ড. আম্বেদকর ঘোষণা করেছিলেন: "সংবিধানের মূল ভাবনার ওপর কারও কোনো প্যাটেন্ট অধিকার থাকতে পারে না।"”
আমাদের সংবিধান প্রণেতারা বিশ্বের ৬০টিরও বেশি দেশের সংবিধান অধ্যয়ন করেছিলেন। মৌলিক অধিকার ও বিচারবিভাগীয় পর্যালোচনা আমেরিকা থেকে, সংসদীয় ব্যবস্থা ব্রিটেন থেকে, নির্দেশমূলক নীতি আয়ারল্যান্ড থেকে, যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামো কানাডা থেকে এবং স্বাধীনতা ও সমতার আদর্শ ফ্রান্স থেকে গ্রহণ করে ভারতীয় বাস্তবতার সাথে খাপ খাইয়ে নেওয়া হয়েছিল।
X
হাতি: গণপরিষদের আনুষ্ঠানিক সিলমোহরের প্রতীক
“গণপরিষদের সমস্ত অফিশিয়াল চিঠি, খসড়া এবং কার্যবিবরণীতে এই সিলমোহর খোদাই করা ছিল।”
গণপরিষদের সরকারি সিলমোহর ছিল "হাতি"। শক্তি, প্রজ্ঞা, ধৈর্য এবং ভারতীয় উপমহাদেশের বিশালতা ও অসীম বৈচিত্র্যকে সম্মান জানাতে হাতিকে এই প্রতীকে স্থান দেওয়া হয়েছিল।
XI
ড. আম্বেদকরের মতে সংবিধানের "হৃদয় ও আত্মা": অনুচ্ছেদ ৩২
“নাগরিকদের ৫টি ঐতিহাসিক রিটের (হেবিয়াস কর্পাস, ম্যান্ডামাস ইত্যাদি) সরাসরি সাংবিধানিক সুরক্ষা দেয়।”
গণপরিষদে যখন জিজ্ঞাসা করা হয় সংবিধানের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অনুচ্ছেদ কোনটি, তখন ড. আম্বেদকর স্পষ্ট ভাষায় বলেছিলেন: "যদি আমাকে এমন কোনো অনুচ্ছেদের নাম বলতে বলা হয় যা ছাড়া সংবিধান ব্যর্থ হয়ে পড়বে, তবে আমি অনুচ্ছেদ ৩২ ছাড়া আর কারও নাম নিতে পারব না। এটি সংবিধানের আত্মা এবং এর হৃদয়।" এটি নাগরিকদের সরাসরি সুপ্রিম কোর্টে প্রতিকার চাওয়ার অধিকার দেয়।
XII
১৯৫০ সালের মূল প্রস্তাবনায় "সমাজতান্ত্রিক" ও "ধর্মনিরপেক্ষ" শব্দ ছিল না
“ভারতের সংবিধানের ইতিহাসে প্রস্তাবনা কেবল একবারই সংশোধিত হয়েছে।”
১৯৫০ সালে গৃহীত মূল প্রস্তাবনায় ভারতকে "সার্বভৌম গণতান্ত্রিক সাধারণতন্ত্র" বলা হয়েছিল। "সমাজতান্ত্রিক", "ধর্মনিরপেক্ষ" এবং "সংহতি" শব্দগুলি ২৬ বছর পর ১৯৭৬ সালে ৪২তম সংবিধান সংশোধনীর মাধ্যমে যুক্ত করা হয়।
XIII
স্যার বি. এন. রাও: অবৈতনিক স্থপতি যিনি কোনো বেতন নেননি
“কোনো পারিশ্রমিক ছাড়াই সংবিধানের ২৪৩টি অনুচ্ছেদের প্রাথমিক খসড়া প্রস্তুত করেছিলেন।”
গণপরিষদের সাংবিধানিক উপদেষ্টা স্যার বেনেগাল নরসিং রাও (বি. এন. রাও) সংবিধানের প্রাথমিক খসড়াটি সম্পূর্ণ নিঃশুল্কভাবে তৈরি করেছিলেন। সরকারের পক্ষ থেকে বেতনের প্রস্তাব দেওয়া হলে তিনি তা বিনীতভাবে প্রত্যাখ্যান করেন। ১৯৪৭ সালে তিনি আমেরিকা, ব্রিটেন, আয়ারল্যান্ড ও কানাডা ভ্রমণ করে শীর্ষ আইনজ্ঞদের সাথে পরামর্শ করেন, যার মধ্যে মার্কিন সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি ফেলিক্স ফ্রাঙ্কফুর্টারও ছিলেন।
XIV
২৬ জানুয়ারি কেন? ১৯৩০ সালের পূর্ণ স্বরাজের পবিত্র শপথ
“২৬ নভেম্বর সংবিধান গ্রহণের দিন, আর ২৬ জানুয়ারি ১৯৩০ সালের স্বাধীনতা শপথের স্মৃতি।”
যদিও ১৯৪৯ সালের ২৬ নভেম্বর সংবিধান বিধিবদ্ধ ও গৃহীত হয়েছিল, প্রণেতারা এটি কার্যকর করার জন্য ১৯৫০ সালের ২৬ জানুয়ারিকে বেছে নিয়েছিলেন। এই বিশেষ দিনটিকে স্মরণীয় রাখা হয়েছিল কারণ ১৯৩০ সালের ২৬ জানুয়ারি লাহোরে ইরাবতী নদীর তীরে জওহরলাল নেহেরুর সভাপতিত্বে ঐতিহাসিক "পূর্ণ স্বরাজ" ঘোষণার সংকল্প নেওয়া হয়েছিল।
XV
মূল পাণ্ডুলিপিতে ড. রাজেন্দ্র প্রসাদের আকস্মিক দুটি স্বাক্ষর
“একমাত্র প্রতিষ্ঠাতা সদস্য যাঁর স্বাক্ষর মূল ইংরেজি পাণ্ডুলিপির পাতায় দুবার অঙ্কিত হয়েছে।”
১৯৫০ সালের ২৪ জানুয়ারি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে গণপরিষদের সভাপতি ড. রাজেন্দ্র প্রসাদ ভুলবশত ইংরেজি পাণ্ডুলিপিতে ড. বি. আর. আম্বেদকরের জন্য নির্ধারিত জায়গায় সই করে ফেলেন। সেই ঐতিহাসিক অমূল্য পৃষ্ঠা বাতিল না করে, ড. প্রসাদ লাইনের ঠিক ওপরে পুনরায় স্বাক্ষর করেন। ফলে তিনিই একমাত্র সদস্য যাঁর সই ওই পাতায় দুবার রয়েছে।
XVI
সার্ভে অব ইন্ডিয়া কর্তৃক মুদ্রিত ১,০০০টি বিশেষ প্রতিলিপি
“গণপরিষদের সদস্য ও রাজ্য বিধানসভাগুলোর জন্য ঠিক ১,০০০টি বিশেষ কপি তৈরি হয়েছিল।”
যেহেতু সংবিধান হাতে লেখা হয়েছিল এবং কোনো মেটাল টাইপে ছাপা হয়নি, তাই এর সরকারি কপি তৈরি করতে দেরাদুনের সার্ভে অব ইন্ডিয়া প্রতিটি অলঙ্কৃত পৃষ্ঠার ছবি তুলে ১৯৫০ সালে ঠিক ১,০০০টি ফটোলিথোগ্রাফিক কপি প্রস্তুত করে। প্রতিটি কপি খাঁটি সোনার কারুকাজ ও কালো মরোক্কো চামড়ায় বাঁধানো হয়েছিল।
XVII
একমাত্র অপসারিত অধিকার: সম্পত্তির মৌলিক অধিকার (১৯৭৮)
“ভারতের সংবিধানের ইতিহাসে মৌলিক অধিকারের অংশ থেকে সম্পূর্ণ অপসারিত একমাত্র অধিকার।”
১৯৫০ সালের মূল সংবিধানে অনুচ্ছেদ ১৯(১)(চ) এবং ৩১ অনুযায়ী সম্পত্তির অধিকার মৌলিক অধিকার হিসেবে অন্তর্ভুক্ত ছিল। কিন্তু জমিদারি প্রথা বিলোপ ও ভূমিসংস্কার কার্যকর করতে গিয়ে আইনি জটিলতা দেখা দেওয়ায় ১৯৭৮ সালে ৪৪তম সংবিধান সংশোধনীর মাধ্যমে এটিকে মৌলিক অধিকার থেকে বাদ দিয়ে অনুচ্ছেদ ৩০০ক-এর অধীনে সাধারণ আইনি অধিকারে পরিণত করা হয়।
XVIII
সংবিধানের সংক্ষিপ্ততম অনুচ্ছেদ: মাত্র সাতটি প্রভাবশালী শব্দ
“মাত্র সাতটি শব্দের মাধ্যমে দেশের সর্বোচ্চ রাষ্ট্রপ্রধানের পদ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।”
শত শত দীর্ঘ অনুচ্ছেদের মাঝে অনুচ্ছেদ ৫২ হলো সম্পূর্ণ সংবিধানের সংক্ষিপ্ততম অনুচ্ছেদ, যার মূল বক্তব্য মাত্র সাতটি শব্দে গঠিত: "ভারতের একজন রাষ্ট্রপতি থাকিবেন।" এই সংক্ষিপ্ত বাক্যের মাধ্যমেই ভারতীয় প্রজাতন্ত্রের রাষ্ট্রপ্রধান এবং সশস্ত্র বাহিনীর সর্বাধিনায়কের সাংবিধানিক পদের সৃষ্টি হয়েছে।
XIX
হংসা মেহতা: বিশ্ব মানবাধিকারে "All Men"-কে "All Human Beings"-এ রূপান্তর
“একজন ভারতীয় নারী যিনি বৈশ্বিক মানবাধিকারের ভাষাকে "পুরুষ"-এর পরিবর্তে "সমগ্র মানবজাতি"-তে রূপান্তর করেছিলেন।”
ভারতের সংবিধান সভায় লিঙ্গসমতার লড়াইয়ের পাশাপাশি, গণপরিষদ সদস্য হংসা মেহতা ১৯৪৭-৪৮ সালে জাতিসংঘের মানবাধিকার সনদের খসড়া কমিটিতে ভারতের প্রতিনিধিত্ব করেন। তিনি এলেনর রুজভেল্টের "All men are born free and equal" শব্দবন্ধের বিরোধিতা করে যুক্তি দেন যে এতে নারীদের বাদ দেওয়া হতে পারে। তাঁর জোরালো দাবিতেই বিশ্বজুড়ে এটি "All human beings" হিসেবে গৃহীত হয়।
XX
অশোক স্তম্ভের জাতীয় প্রতীক: খাঁচায় জীবন্ত সিংহ পর্যবেক্ষণ করে অঙ্কিত
“কলকাতার চিড়িয়াখানায় সরাসরি জীবন্ত সিংহ পর্যবেক্ষণ করে জাতীয় প্রতীকটিকে জীবন্ত রূপ দেওয়া হয়েছিল।”
১৯৫০ সালের ২৬ জানুয়ারি সারনাথের অশোক স্তম্ভকে ভারতের জাতীয় প্রতীক হিসেবে গ্রহণ করা হয় এবং সাথে "সত্যমেব জয়তে" নীতিবাক্য যুক্ত করা হয়। মূল সংবিধানে এই প্রতীকটি আঁকার জন্য শান্তিনিকেতনের ২১ বছর বয়সী ছাত্র দীননাথ ভার্গব টানা এক মাস ধরে কলকাতা চিড়িয়াখানায় গিয়ে জীবন্ত সিংহের শারীরিক গঠন ও অভিব্যক্তি পর্যবেক্ষণ করে এই ঐতিহাসিক নকশা সম্পন্ন করেন।