মালিক যদি বেতন আটকে রাখে বা বিনা বেতনে জোর করে অতিরিক্ত কাজ করায় তবে আপনার কী অধিকার?
বেতন না দেওয়া বা ন্যূনতম মজুরির চেয়ে কম দেওয়া সংবিধানের অনুচ্ছেদ ২৩ অনুযায়ী বেগার বা জোরপূর্বক শ্রমের সমান অপরাধ।
- • সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী বেতন আটকে রাখা বা সার্টিফিকেট কেড়ে নেওয়া সংবিধানের ২৩ অনুচ্ছেদের লঙ্ঘন।
- লেবার কমিশনারের কাছে অভিযোগ দায়ের করুন এবং বকেয়া আদায়ের আবেদন জানান।
নোটিশ পিরিয়ড শেষ হওয়ার পর কি কোম্পানি আপনার রিলিভিং লেটার আটকে রাখতে পারে?
না। নোটিশ পিরিয়ড শেষ হওয়ার পর অভিজ্ঞতার প্রমাণপত্র বা রিলিভিং লেটার আটকে রাখা বেআইনি।
- • অভিজ্ঞতার সার্টিফিকেট কোনো উপহার নয়, এটি কর্মীর ন্যায্য অধিকার।
- এইচআরকে লিখিত ইমেইল পাঠান এবং লেবার কমিশনারের কাছে জানান।
চাকরি ছাড়ার পর প্রতিদ্বন্দ্বী কোম্পানিতে যোগদানে কি ১-২ বছরের নিষেধাজ্ঞা চাপানো যায়?
সম্পূর্ণ বাতিল ও অকার্যকর! চুক্তি আইনের ধারা ২৭ অনুযায়ী যেকোনো পেশা অবলম্বনে বাধা সৃষ্টিকারী বন্ড আইনত অকার্যকর।
- • চাকরি ছাড়ার পর নতুন চাকরি পেতে কোম্পানি বাধা দিতে পারে না।
- ভয় পাবেন না, তবে আগের কোম্পানির কোনো গোপন ডেটা সাথে রাখবেন না।
গর্ভবতী মহিলা কর্মীকে কি বরখাস্ত করা বা ২৬ সপ্তাহের বেতনসহ মাতৃত্বকালীন ছুটি প্রত্যাখ্যান করা যায়?
সম্পূর্ণ বেআইনি! ১০ জনের বেশি কর্মী থাকা প্রতিষ্ঠানে মহিলাদের ২৬ সপ্তাহের পূর্ণ বেতনসহ মাতৃত্বকালীন ছুটি বাধ্যতামূলক। এই সময়ে বরখাস্ত করা শাস্তিযোগ্য অপরাধ।
- • ছুটিকালীন সময়ে কর্মীকে ছাঁটাই বা পদাবনতি করা দণ্ডনীয় অপরাধ।
- এইচআরকে লিখিত নোটিশ দিন এবং বরখাস্ত করলে লেবার দপ্তরে অভিযোগ জানান।
টানা ৫ বছর চাকরি করার পর কি কোম্পানি গ্র্যাচুইটি দিতে অস্বীকার করতে পারে?
না। ৫ বছর চাকরি পূর্ণ হলে গ্র্যাচুইটি পাওয়া কর্মীর বিধিবদ্ধ অধিকার। কোম্পানি তা আটকে রাখতে পারে না।
- • ৩০ দিনের বেশি দেরি করলে কোম্পানিকে সুদসহ টাকা দিতে হবে।
- ইস্তফার পর ফর্ম I জমা দিন এবং না পেলে নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষের কাছে ফর্ম N দাখিল করুন।
বেতন কাটার স্বেচ্ছাচারিতা: কোনো কোম্পানি কি কারণ দর্শানো ছাড়া পুরো বেতন আটকে রাখতে বা জরিমানা কাটতে পারে?
সম্পূর্ণ বেআইনি! মজুরি প্রদান আইন ১৯৩৬ অনুযায়ী আইনসম্মত কর ও পিএফ ছাড়া কোম্পানি খেয়ালখুশিমতো বেতন কাটতে পারে না। মোট বেতন কর্তন কখনোই ৫০%-এর বেশি হতে পারে না।
- • ১. কোনো মাসের মোট বেতন কর্তন মোট উপার্জনের ৫০%-এর বেশি হতে পারে না।
- • ২. কারণ দর্শানোর সুযোগ না দিয়ে কোনো ধরনের জরিমানা বা বেতন কর্তন করা যাবে না।
- • ৩. মাসের ৭ থেকে ১০ তারিখের মধ্যে সম্পূর্ণ বেতন একাউন্টে জমা করা বাধ্যতামূলক।
- ১. এইচআর-কে ইমেল করে স্যালারি স্লিপ ও বেতন কাটার সুনির্দিষ্ট ব্যাখ্যা চান।
- ২. জানান: "আইন অনুযায়ী বিনা অনুমতিতে বেতন কাটা বেআইনি ও দণ্ডনীয় অপরাধ।\"
- ৩. ১৫ দিনে সমাধান না হলে স্থানীয় লেবার অফিসারের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে ক্লেইম জমা দিন।
- ৪. বকেয়া বেতনের সাথে সর্বোচ্চ ১০ গুণ ক্ষতিপূরণ আদায়ের আবেদন জানান।
সপ্তাহে ৪৮ ঘণ্টার বেশি কাজ: কর্মীরা কি দ্বিগুণ হারে ওভারটাইম পাওয়ার অধিকারী?
বাধ্যতামূলক! কারখানা আইন ও দোকান প্রতিষ্ঠান আইন অনুযায়ী দিনে ৯ ঘণ্টা বা সপ্তাহে ৪৮ ঘণ্টার বেশি কাজ করালে কর্মীকে সাধারণ হারের দ্বিগুণ হারে ওভারটাইম ভাতা দেওয়া আইনত বাধ্যতামূলক।
- • ১. সাধারণ কর্মসপ্তাহ ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে সীমাবদ্ধ; এর অতিরিক্ত কাজ ওভারটাইম হিসেবে গণ্য।
- • ২. ওভারটাইমের হার হবে: মূল বেতন ও মহার্ঘ ভাতার ঠিক দ্বিগুণ।
- • ৩. অবৈতনিক অতিরিক্ত কাজ বা উইকএন্ডে জোর করে কাজ করানো সম্পূর্ণ বেআইনি।
- ১. বায়োমেট্রিক পাঞ্চিং ও ইমেলের সময়সূচী অনুযায়ী ব্যক্তিগত ওভারটাইমের হিসাব রাখুন।
- ২. আইনের ৫৯ ধারা উল্লেখ করে দ্বিগুণ ওভারটাইম ভাতার জন্য এইচআরে আবেদন জমা দিন।
- ৩. কোম্পানি অস্বীকৃতি জানালে লেবার ইন্সপেক্টরের দপ্তরে আনুষ্ঠানিক নালিশ জানান।
- ৪. শ্রম আদালতের আদেশে সুদসহ সম্পূর্ণ বকেয়া ওভারটাইমের অর্থ আদায় করুন।