বেতন কাটার স্বেচ্ছাচারিতা: কোনো কোম্পানি কি কারণ দর্শানো ছাড়া পুরো বেতন আটকে রাখতে বা জরিমানা কাটতে পারে?
সম্পূর্ণ বেআইনি! মজুরি প্রদান আইন ১৯৩৬ অনুযায়ী আইনসম্মত কর ও পিএফ ছাড়া কোম্পানি খেয়ালখুশিমতো বেতন কাটতে পারে না। মোট বেতন কর্তন কখনোই ৫০%-এর বেশি হতে পারে না।
- • ১. কোনো মাসের মোট বেতন কর্তন মোট উপার্জনের ৫০%-এর বেশি হতে পারে না।
- • ২. কারণ দর্শানোর সুযোগ না দিয়ে কোনো ধরনের জরিমানা বা বেতন কর্তন করা যাবে না।
- • ৩. মাসের ৭ থেকে ১০ তারিখের মধ্যে সম্পূর্ণ বেতন একাউন্টে জমা করা বাধ্যতামূলক।
- ১. এইচআর-কে ইমেল করে স্যালারি স্লিপ ও বেতন কাটার সুনির্দিষ্ট ব্যাখ্যা চান।
- ২. জানান: "আইন অনুযায়ী বিনা অনুমতিতে বেতন কাটা বেআইনি ও দণ্ডনীয় অপরাধ।\"
- ৩. ১৫ দিনে সমাধান না হলে স্থানীয় লেবার অফিসারের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে ক্লেইম জমা দিন।
- ৪. বকেয়া বেতনের সাথে সর্বোচ্চ ১০ গুণ ক্ষতিপূরণ আদায়ের আবেদন জানান।
রূপান্তরকামী (Transgender) নাগরিকদের অধিকার: চাকরি, শিক্ষা বা বাড়িভাড়ায় কি বৈষম্য করা যায়?
সম্পূর্ণ বেআইনি! রূপান্তরকামী ব্যক্তি অধিকার সুরক্ষা আইন ২০১৯ ও নালসা (NALSA) রায় অনুযায়ী রূপান্তরকামী নাগরিকদের চাকরি, বাড়িভাড়া বা নাগরিক অধিকারে বৈষম্য করা শাস্তিযোগ্য অপরাধ।
- • ১. কোনো প্রতিষ্ঠান লিঙ্গ পরিচয়ের কারণে চাকরি দিতে অস্বীকার বা বরখাস্ত করতে পারে না।
- • ২. প্রতিটি প্রতিষ্ঠানে সমান সুযোগ নীতি এবং অভিযোগ নিষ্পত্তির জন্য কমপ্লেন্ট অফিসার থাকা বাধ্যতামূলক।
- • ৩. বাড়িভাড়া দিতে অস্বীকার বা জোরপূর্বক উচ্ছেদ করলে ১৮ ধারায় ২ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড হতে পারে।
- ১. জাতীয় রূপান্তরকামী পোর্টাল থেকে অফিশিয়াল পরিচয়পত্র সংগ্রহ করুন।
- ২. বৈষম্যের শিকার হলে প্রতিষ্ঠানের কমপ্লেন্ট অফিসারের কাছে লিখিত নালিশ জানান।
- ৩. জেলাশাসকের (DM) দপ্তরে ১৯ ধারায় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদন করুন।
- ৪. সংবিধানের অনুচ্ছেদ ২২৬ অনুযায়ী হাইকোর্টে রিট পিটিশন দাখিল করুন।
ধারা ১৪৪-এ কি খেয়ালখুশিমতো ইন্টারনেট বন্ধ করা যায়?
একদমই না! সুপ্রিম কোর্টের ঐতিহাসিক অনুরাধা ভাসিন (২০২০) রায় অনুযায়ী ইন্টারনেটের মাধ্যমে মতপ্রকাশ ও পেশা পরিচালনা অনুচ্ছেদ ১৯(১)(ক) ও ১৯(১)(ছ)-এর অধীনে সুরক্ষিত মৌলিক অধিকার। খেয়ালখুশিমতো ইন্টারনেট বন্ধ করা বেআইনি ও অসাংবিধানিক।
- • ১. ইন্টারনেটের মৌলিক অধিকার: সুপ্রিম কোর্ট অনুরাধা ভাসিন (২০২০) মামলায় রায় দিয়েছে যে ইন্টারনেটের মাধ্যমে মতপ্রকাশ ও ব্যবসা পরিচালনা সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১৯(১)(ক) ও ১৯(১)(ছ)-এর অধীনে সুরক্ষিত মৌলিক অধিকার।
- • ২. আনুপাতিকতার কড়া পরীক্ষা: নিছক আইনশৃঙ্খলার অজুহাতে বা পরীক্ষায় টুকলি রোখার মতো সাধারণ কারণে খেয়ালখুশিমতো ইন্টারনেট বন্ধ করা চরম অসাংবিধানিক ও বেআইনি।
- • ৩. সরকারি আদেশ জনসমক্ষে প্রকাশ বাধ্যতামূলক: দূরসংযোগ স্থগিতাদেশ বিধিমালা ২০১৭ অনুযায়ী লিখিত আদেশ অবিলম্বে বিজ্ঞাপিত করতে হবে, যাতে নাগরিকরা হাইকোর্টে রিট আবেদন করতে পারেন।
- • ৪. সর্বোচ্চ ১৫ দিনের মেয়াদ: ২০২০ সালের সংশোধিত বিধিমালা অনুসারে কোনো স্থগিতাদেশ একনাগাড়ে ১৫ দিনের বেশি বলবৎ থাকতে পারে না এবং ৫ কার্যদিবসের মধ্যে রিভিউ কমিটির অনুমোদন বাধ্যতামূলক।
- ১. স্বরাষ্ট্র সচিব কর্তৃক জারিকৃত সরকারি লিখিত বিজ্ঞপ্তির কপি যাচাই করুন এবং তাতে জরুরি কারণ দর্শানো হয়েছে কিনা দেখুন।
- ২. ইউপিআই পেমেন্ট, জরুরি চিকিৎসা বা অনলাইন পড়াশোনায় বাধার প্রমাণ নথিবদ্ধ করে রাখুন।
- ৩. মনগড়া বা বেআইনি ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউটের বিরুদ্ধে সংবিধানের অনুচ্ছেদ ২২৬-এর অধীনে অবিলম্বে হাইকোর্টে রিট পিটিশন দায়ের করুন।