জরুরি নাগরিক হেল্পলাইন

🏛️
🇮🇳 ভারতের সর্বোচ্চ আইন • ২৬ জানুয়ারি ১৯৫০ প্রবর্তিত

ভারতের সম্পূর্ণ সংবিধান ও ডিজিটাল সংগ্রহশালা

বিশ্বের বৃহত্তম লিখিত সংবিধানের ৩৯৫টি অনুচ্ছেদ, ২৫টি অংশ ও ১২টি তফসিল পড়ুন সহজ নাগরিক ভাষায়, সাথে সংবিধান সভার ঐতিহাসিক বিতর্ক ও আদালতের রায়।

395+
অনুচ্ছেদ (Articles)
25
অংশ (Parts)
12
তফসিল (Schedules)
106
সংশোধনী (Amendments)
📜 প্রস্তাবনা “আমরা, ভারতের জনগণ, ভারতকে একটি সার্বভৌম সমাজতান্ত্রিক ধর্মনিরপেক্ষ গণতান্ত্রিক সাধারণতন্ত্র রূপে গড়ে তুলতে...”
“আমরা, ভারতের জনগণ, ভারতকে একটি সার্বভৌম সমাজতান্ত্রিক ধর্মনিরপেক্ষ গণতান্ত্রিক সাধারণতন্ত্র রূপে গড়ে তুলতে এবং তার সকল নাগরিক যাতে সামাজিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক ন্যায়বিচার; চিন্তা, মত প্রকাশ, বিশ্বাস, ধর্ম ও উপাসনার স্বাধীনতা; সামাজিক মর্যাদা ও সুযোগের সমতা লাভ করে এবং তাদের সকলের মধ্যে ব্যক্তি-মর্যাদা ও জাতীয় ঐক্য ও সংহতির আশ্বাসক ভ্রাতৃত্বভাব গড়ে তুলতে দৃঢ়সংকল্প হয়ে আমাদের সংবিধান সভায় অদ্য ১৯৪৯ সালের ২৬ নভেম্বর তারিখে এতদ্বারা এই সংবিধান গ্রহণ, বিধিবদ্ধ ও নিজেদের প্রদান করছি।”
Page 1 • সহজ নাগরিক ভাষায় ব্যাখ্যাকৃত
অনুচ্ছেদ 0
Preamble

প্রস্তাবনা (ভারতের সংবিধানের প্রস্তাবনা)

প্রস্তাবনা হলো সংবিধানের পরিচয়পত্র। এটি ঘোষণা করে যে চরম ক্ষমতার উৎস "আমরা, ভারতের জনগণ"। যেকোনো আইনকে ন্যায়বিচার, স্বাধীনতা, সুযোগের সমতা ও মানুষের মর্যাদার পক্ষে হতে হবে।

অনুচ্ছেদ 1
Part I

যুক্তরাষ্ট্রের নাম ও রাজ্যক্ষেত্র

ধারা ১ অনুযায়ী "ইন্ডিয়া, অর্থাৎ ভারত, রাজ্যসমূহের একটি ইউনিয়ন হবে।" এটি ভারতের ভৌগোলিক সীমানা এবং সমস্ত রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলকে ঐক্যবদ্ধ করে।

অনুচ্ছেদ 2
Part I

নতুন রাজ্যের প্রবেশ বা প্রতিষ্ঠা

সংবিধানের Part I (যুক্তরাষ্ট্র ও তার রাজ্যক্ষেত্র)-এর অধীনে অনুচ্ছেদ 2 'নতুন রাজ্যের প্রবেশ বা প্রতিষ্ঠা' বিষয়ে বিধান দেয়। এটি নতুন রাজ্য গঠন, সীমানা পরিবর্তন এবং প্রথম ও চতুর্থ তফসিল সংশোধনের সংসদীয় পদ্ধতি নির্ধারণ করে।

অনুচ্ছেদ 3
Part I

নতুন রাজ্য গঠন এবং বর্তমান রাজ্যসমূহের এলাকা, সীমানা বা নাম পরিবর্তন

সংবিধানের Part I (যুক্তরাষ্ট্র ও তার রাজ্যক্ষেত্র)-এর অধীনে অনুচ্ছেদ 3 'নতুন রাজ্য গঠন এবং বর্তমান রাজ্যসমূহের এলাকা, সীমানা বা নাম পরিবর্তন' বিষয়ে বিধান দেয়। এটি নতুন রাজ্য গঠন, সীমানা পরিবর্তন এবং প্রথম ও চতুর্থ তফসিল সংশোধনের সংসদীয় পদ্ধতি নির্ধারণ করে।

অনুচ্ছেদ 4
Part I

প্রথম ও চতুর্থ তফসিল সংশোধনের জন্য অনুচ্ছেদ ২ ও ৩-এর অধীনে প্রণীত আইন

সংবিধানের Part I (যুক্তরাষ্ট্র ও তার রাজ্যক্ষেত্র)-এর অধীনে অনুচ্ছেদ 4 'প্রথম ও চতুর্থ তফসিল সংশোধনের জন্য অনুচ্ছেদ ২ ও ৩-এর অধীনে প্রণীত আইন' বিষয়ে বিধান দেয়। এটি নতুন রাজ্য গঠন, সীমানা পরিবর্তন এবং প্রথম ও চতুর্থ তফসিল সংশোধনের সংসদীয় পদ্ধতি নির্ধারণ করে।

অনুচ্ছেদ 5
Part II

সংবিধানের প্রারম্ভে নাগরিকত্ব

সংবিধানের ২য় অংশের (নাগরিকত্ব) অনুচ্ছেদ 5 'সংবিধানের প্রারম্ভে নাগরিকত্ব' নির্ধারণ করে। এটি ২৬ জানুয়ারি ১৯৫০-এ সংবিধান প্রবর্তনের সময় আবাসস্থল, দেশভাগের সময় স্থানান্তর, প্রবাসী ভারতীয়দের নিবন্ধন এবং বিদেশের নাগরিকত্ব গ্রহণ করলে ভারতীয় নাগরিকত্বের আইনি অবস্থান স্পষ্ট করে।

অনুচ্ছেদ 6
Part II

পাকিস্তান থেকে ভারতে আগত কিছু ব্যক্তির নাগরিকত্বের অধিকার

সংবিধানের ২য় অংশের (নাগরিকত্ব) অনুচ্ছেদ 6 'পাকিস্তান থেকে ভারতে আগত কিছু ব্যক্তির নাগরিকত্বের অধিকার' নির্ধারণ করে। এটি ২৬ জানুয়ারি ১৯৫০-এ সংবিধান প্রবর্তনের সময় আবাসস্থল, দেশভাগের সময় স্থানান্তর, প্রবাসী ভারতীয়দের নিবন্ধন এবং বিদেশের নাগরিকত্ব গ্রহণ করলে ভারতীয় নাগরিকত্বের আইনি অবস্থান স্পষ্ট করে।

অনুচ্ছেদ 7
Part II

পাকিস্তানে চলে যাওয়া কিছু ব্যক্তির নাগরিকত্বের অধিকার

সংবিধানের ২য় অংশের (নাগরিকত্ব) অনুচ্ছেদ 7 'পাকিস্তানে চলে যাওয়া কিছু ব্যক্তির নাগরিকত্বের অধিকার' নির্ধারণ করে। এটি ২৬ জানুয়ারি ১৯৫০-এ সংবিধান প্রবর্তনের সময় আবাসস্থল, দেশভাগের সময় স্থানান্তর, প্রবাসী ভারতীয়দের নিবন্ধন এবং বিদেশের নাগরিকত্ব গ্রহণ করলে ভারতীয় নাগরিকত্বের আইনি অবস্থান স্পষ্ট করে।

অনুচ্ছেদ 8
Part II

ভারতের বাইরে বসবাসকারী ভারতীয় বংশোদ্ভূত কিছু ব্যক্তির নাগরিকত্বের অধিকার

সংবিধানের ২য় অংশের (নাগরিকত্ব) অনুচ্ছেদ 8 'ভারতের বাইরে বসবাসকারী ভারতীয় বংশোদ্ভূত কিছু ব্যক্তির নাগরিকত্বের অধিকার' নির্ধারণ করে। এটি ২৬ জানুয়ারি ১৯৫০-এ সংবিধান প্রবর্তনের সময় আবাসস্থল, দেশভাগের সময় স্থানান্তর, প্রবাসী ভারতীয়দের নিবন্ধন এবং বিদেশের নাগরিকত্ব গ্রহণ করলে ভারতীয় নাগরিকত্বের আইনি অবস্থান স্পষ্ট করে।

অনুচ্ছেদ 9
Part II

স্বেচ্ছায় বিদেশী রাষ্ট্রের নাগরিকত্ব গ্রহণকারী ব্যক্তিগণ ভারতের নাগরিক থাকবেন না

সংবিধানের ২য় অংশের (নাগরিকত্ব) অনুচ্ছেদ 9 'স্বেচ্ছায় বিদেশী রাষ্ট্রের নাগরিকত্ব গ্রহণকারী ব্যক্তিগণ ভারতের নাগরিক থাকবেন না' নির্ধারণ করে। এটি ২৬ জানুয়ারি ১৯৫০-এ সংবিধান প্রবর্তনের সময় আবাসস্থল, দেশভাগের সময় স্থানান্তর, প্রবাসী ভারতীয়দের নিবন্ধন এবং বিদেশের নাগরিকত্ব গ্রহণ করলে ভারতীয় নাগরিকত্বের আইনি অবস্থান স্পষ্ট করে।

অনুচ্ছেদ 10
Part II

নাগরিকত্বের অধিকারের ধারাবাহিকতা ও সুরক্ষা

অনুচ্ছেদ ১০ ভারতীয় নাগরিকদের সাংবিধানিক স্থায়ী সুরক্ষা দেয়। এটি স্পষ্ট করে যে ভারতের নাগরিক হিসেবে স্বীকৃত প্রতিটি ব্যক্তি ধারাবাহিকভাবে সেই নাগরিকত্ব বজায় রাখবেন। কোনো পুলিশ অফিসার বা সরকারি কর্মকর্তা খামখেয়ালিভাবে কাউকে রাষ্ট্রহীন বা অধিকারচ্যুত করতে পারেন না।

অনুচ্ছেদ 11
Part II

সংসদ কর্তৃক আইন দ্বারা নাগরিকত্বের অধিকার নিয়ন্ত্রণ

সংবিধানের ২য় অংশের (নাগরিকত্ব) অনুচ্ছেদ 11 'সংসদ কর্তৃক আইন দ্বারা নাগরিকত্বের অধিকার নিয়ন্ত্রণ' নির্ধারণ করে। এটি ২৬ জানুয়ারি ১৯৫০-এ সংবিধান প্রবর্তনের সময় আবাসস্থল, দেশভাগের সময় স্থানান্তর, প্রবাসী ভারতীয়দের নিবন্ধন এবং বিদেশের নাগরিকত্ব গ্রহণ করলে ভারতীয় নাগরিকত্বের আইনি অবস্থান স্পষ্ট করে।

অনুচ্ছেদ 12 মৌলিক অধিকার — নাগরিক সুরক্ষা কবচ
Part III

সংজ্ঞা ("রাষ্ট্র" শব্দের সাংবিধানিক অর্থ)

মৌলিক অধিকার হলো সরকারি ক্ষমতার অপব্যবহারের বিরুদ্ধে ঢাল। ধারা ১২ নির্ধারণ করে যে কেন্দ্র, রাজ্য, পুলিশ, পৌরসভা ও সরকারি সংস্থাগুলি "রাষ্ট্রের" অংশ এবং এদের প্রত্যেকের বিরুদ্ধে অধিকার রক্ষা করা যাবে।

অনুচ্ছেদ 13 মৌলিক অধিকার — নাগরিক সুরক্ষা কবচ
Part III

মৌলিক অধিকারের সাথে অসামঞ্জস্যপূর্ণ বা পরিপন্থী আইন বাতিল (বিচারবিভাগীয় পর্যালোচনা)

ধারা ১৩ বিচারবিভাগকে "জুডিশিয়াল রিভিউ"-এর ক্ষমতা দেয়। সংসদ বা সরকার এমন কোনো আইন বানাতে পারে না যা নাগরিকের মৌলিক অধিকার খর্ব করে। কোর্ট তা সঙ্গে সঙ্গে বাতিল করে দেবে।

অনুচ্ছেদ 14 মৌলিক অধিকার — নাগরিক সুরক্ষা কবচ
Part III

আইনের চোখে সমতা ও আইনের সমান সুরক্ষা

ধারা ১৪ হলো ভারতে 'আইনের শাসন' (Rule of Law)-এর ভিত্তিপ্রস্তর এবং সংবিধানের 'স্বর্ণালী ত্রিভুজ' (ধারা ১৪, ১৯ ও ২১)-এর প্রথম স্তম্ভ। এটি দুটি মহান সাংবিধানিক নীতিকে একত্রিত করেছে: (১) 'আইনের দৃষ্টিতে সমতা'—যার অর্থ কোনো ব্যক্তিই (তিনি যত ধনী বা ক্ষমতাশালীই হোন না কেন) আইনের ঊর্ধ্বে নন; এবং (২) 'আইনের সমান সুরক্ষা'—যার অর্থ সমপর্যায়ের মানুষের সাথে আইনের আচরণ সমান হতে হবে। ১৯৭৪ সালে 'ই.পি. রোয়াপ্পা' মামলায় সুপ্রিম কোর্ট যুগান্তকারী রায় দেয় যে 'সমতা এবং স্বেচ্ছাচারিতা পরস্পর বিরোধী।' যখনই কোনো সরকারি দপ্তর, পুলিশ বা প্রশাসন কোনো যুক্তিসঙ্গত কারণ ছাড়া পক্ষপাতদুষ্ট, অন্যায্য বা খেয়ালখুশিমতো সিদ্ধান্ত নেয়, তখনই ধারা ১৪ সেই বেআইনি পদক্ষেপকে বাতিল করার ক্ষমতা দেয়।

অনুচ্ছেদ 15 মৌলিক অধিকার — নাগরিক সুরক্ষা কবচ
Part III

ধর্ম, জাতি, বর্ণ, লিঙ্গ বা জন্মস্থানের ভিত্তিতে বৈষম্য নিষিদ্ধকরণ

ধারা ১৫ সামাজিক কুসংস্কার ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে নাগরিকের দৈনন্দিন রক্ষাকবচ। ধারা ১৫(১) অনুযায়ী রাষ্ট্র কেবল ধর্ম, জাতি, বর্ণ, লিঙ্গ বা জন্মস্থানের ভিত্তিতে কোনো নাগরিকের সাথে বৈষম্য করতে পারে না। আরও গুরুত্বপূর্ণ হলো, ধারা ১৫(২) বেসরকারি মালিকানাধীন জনপরিসরের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য: কোনো দোকান, পাবলিক রেস্তোরাঁ, হোটেল, শপিং মল বা সিনেমা হলে প্রবেশের ক্ষেত্রে কিংবা সরকারি অর্থে নির্মিত পুকুর, কূপ, স্নানঘাট ও রাস্তা ব্যবহারে কাউকে বাধা দেওয়া সম্পূর্ণ বেআইনি। পাশাপাশি, প্রকৃত সামাজিক সাম্য প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ধারা ১৫(৩) থেকে ১৫(৬) রাষ্ট্রকে নারী ও শিশুদের জন্য বিশেষ সুরক্ষা আইন ও কল্যাণমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের এবং তফসিলি জাতি (SC), তফসিলি উপজাতি (ST), অন্যান্য অনগ্রসর শ্রেণি (OBC) ও আর্থিকভাবে দুর্বল শ্রেণির (EWS) শিক্ষার্থীদের জন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সংরক্ষণের সাংবিধানিক ক্ষমতা দেয়।

অনুচ্ছেদ 16 মৌলিক অধিকার — নাগরিক সুরক্ষা কবচ
Part III

সরকারি চাকরিতে নিয়োগের ক্ষেত্রে সুযোগের সমতা

অনুচ্ছেদ ১৬ সরকারি চাকরিতে মেধার ভিত্তিতে সুযোগের সমতা নিশ্চিত করে। এটি বৈষম্যহীন নিয়োগ নিশ্চিত করার পাশাপাশি অনগ্রসর শ্রেণি, এসসি, এসটি ও অর্থনৈতিকভাবে দুর্বল শ্রেণির (EWS) প্রতিনিধিত্বের জন্য সংরক্ষণের সুযোগ দেয়।

অনুচ্ছেদ 17 মৌলিক অধিকার — নাগরিক সুরক্ষা কবচ
Part III

অস্পৃশ্যতা (ছোঁয়াছুঁয়ি) প্রথার বিলোপ

অনুচ্ছেদ ১৭ ভারতীয় সংবিধানের অন্যতম শর্তহীন মৌলিক অধিকার। এটি জাতিভিত্তিক অস্পৃশ্যতার সামাজিক কুপ্রথা সমূলে বিনাশ করে। কোনো ব্যক্তিকে জাতি বা বর্ণের ভিত্তিতে মন্দিরে, পানির উৎসে, দোকানে বা হাসপাতালে প্রবেশে বাধা দেওয়া ফৌজদারি অপরাধ।

অনুচ্ছেদ 18 মৌলিক অধিকার — নাগরিক সুরক্ষা কবচ
Part III

উপাধি বা খেতাবের বিলোপ

ব্রিটিশ আমলে 'রায় বাহাদুর', 'খান বাহাদুর' ও 'স্যার'-এর মতো খেতাব দিয়ে সমাজে কৃত্রিম অভিজাত শ্রেণি তৈরি করা হতো। ধারা ১৮ এই সামন্ততান্ত্রিক বৈষম্যের অবসান ঘটিয়েছে। ধারা ১৮(১) অনুযায়ী রাষ্ট্র সামরিক বা শিক্ষাগত সম্মান (যেমন পরমবীর চক্র, পিএইচডি, ডাক্তার) ছাড়া অন্য কোনো উপাধি প্রদান করবে না। 'বালাজি রাঘবন বনাম ভারত সরকার (১৯৯৬)' মামলায় সুপ্রিম কোর্ট রায় দেয় যে ভারতরত্ন ও পদ্ম পুরস্কারগুলি ধারা ১৮-এর অধীনে 'উপাধি' নয়, বরং মেধার স্বীকৃতি—তবে শর্ত থাকে যে প্রাপকরা এগুলি নিজেদের নামের আগে বা পরে (Prefix/Suffix) ব্যবহার করতে পারবেন না।

অনুচ্ছেদ 19 মৌলিক অধিকার — নাগরিক সুরক্ষা কবচ
Part III

বাকস্বাধীনতা সহ ৬টি মৌলিক স্বাধীনতার সুরক্ষা

ধারা ১৯ ভারতীয় গণতন্ত্রের অক্সিজেন। ধারা ১৯(১)-এর অধীনে এটি দেশের প্রতিটি নাগরিককে ৬টি মৌলিক স্বাধীনতা প্রদান করে: • ধারা ১৯(১)(ক) — বাক ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা: এর মধ্যে রয়েছে কথা বলা, লেখা, সংবাদপত্রের স্বাধীনতা, সরকারি নীতির সমালোচনা করা, তথ্য জানার অধিকার (RTI), ইন্টারনেটে মতপ্রকাশ এবং জাতীয় পতাকা উত্তোলনের অধিকার। • ধারা ১৯(১)(খ) — অস্ত্র ছাড়া শান্তিপূর্ণভাবে সমবেত হওয়ার অধিকার: শান্তিপূর্ণ মিছিল, জনসভা ও অবস্থান-বিক্ষোভ করার অধিকার। • ধারা ১৯(১)(গ) — সংস্থা, ইউনিয়ন বা সমবায় সমিতি গঠনের অধিকার: রাজনৈতিক দল, শ্রমিক সংগঠন (ট্রেড ইউনিয়ন), ক্লাব বা এনজিও গড়ার স্বাধীনতা। • ধারা ১৯(১)(ঘ) — ভারতের সর্বত্র অবাধ চলাচলের অধিকার: দেশের এক রাজ্য থেকে অন্য রাজ্যে নির্দ্বিধায় যাতায়াতের অধিকার। • ধারা ১৯(১)(ঙ) — ভারতের যেকোনো অংশে বসবাস ও স্থায়ীভাবে থাকার অধিকার: যেকোনো শহরে বা রাজ্যে বাসা ভাড়া নেওয়া বা বসবাসের অধিকার। • ধারা ১৯(১)(ছ) — যেকোনো পেশা, বৃত্তি, বাণিজ্য বা ব্যবসা পরিচালনার অধিকার: হকার, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী থেকে শুরু করে ডাক্তার, উকিল বা স্টার্টআপ—সবার বৈধ জীবিকা অর্জনের স্বাধীনতা।

অনুচ্ছেদ 20 মৌলিক অধিকার — নাগরিক সুরক্ষা কবচ
Part III

অপরাধের জন্য দোষী সাব্যস্ত হওয়ার ক্ষেত্রে সাংবিধানিক সুরক্ষা

ধারা ২০ হলো পুলিশি জুলুম ও প্রাক্তন-তারিখের দমনমূলক আইনের বিরুদ্ধে নাগরিকের অভেদ্য বর্ম। ধারা ২১-এর সাথে এটি এতটাই পবিত্র যে ৪৪তম সংবিধান সংশোধনী অনুযায়ী জাতীয় জরুরি অবস্থার সময়েও এটি কখনো স্থগিত করা যায় না। এর তিনটি প্রধান স্তম্ভ রয়েছে: ১. ধারা ২০(১) — ভূতাপেক্ষ ফৌজদারি আইন থেকে সুরক্ষা (Ex-Post Facto Law): কোনো কাজ করার সময় তা যদি আইনত অপরাধ না হয়ে থাকে, তবে পরে নতুন আইন তৈরি করে সেই পুরোনো কাজের জন্য কাউকে শাস্তি দেওয়া যাবে না বা তৎকালীন নির্ধারিত সাজার চেয়ে বেশি সাজা দেওয়া যাবে না। ২. ধারা ২০(২) — দ্বৈত দণ্ড থেকে সুরক্ষা (Double Jeopardy): একই অপরাধের জন্য কোনো ব্যক্তিকে আদালতে একাধিকবার বিচার ও দণ্ডিত করা যাবে না। ৩. ধারা ২০(৩) — আত্ম-অভিযুক্তকরণ থেকে মুক্তি (Right against Self-Incrimination): কোনো অভিযুক্ত ব্যক্তিকে নিজের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিতে বাধ্য করা যাবে না। তাই থানায় পুলিশের ভয়ে বা মারধরে দেওয়া স্বীকারোক্তি কিংবা সাদা কাগজে স্বাক্ষর আদালতে সম্পূর্ণ মূল্যহীন।

অনুচ্ছেদ 21 মৌলিক অধিকার — নাগরিক সুরক্ষা কবচ
Part III

জীবন ও ব্যক্তিগত স্বাধীনতার অধিকার (মর্যাদা ও গোপনীয়তার অধিকার)

ধারা ২১ মাত্র একটি বাক্যে লেখা—'আইন দ্বারা প্রতিষ্ঠিত পদ্ধতি ব্যতীত কোনো ব্যক্তিকে তার জীবন বা ব্যক্তিগত স্বাধীনতা থেকে বঞ্চিত করা যাবে না'—কিন্তু এটি বিশ্বের গণতান্ত্রিক ইতিহাসে সবচেয়ে বিস্তৃত মানবাধিকার সনদে পরিণত হয়েছে। এতে 'ব্যক্তি' শব্দটি ব্যবহৃত হওয়ায় এটি ভারতীয় নাগরিক ও বিদেশি—উভয়কেই সুরক্ষা দেয়। ১৯৭৮ সালের ঐতিহাসিক 'মেনকা গান্ধী বনাম ভারত সরকার' রায়ে সুপ্রিম কোর্ট ধারা ১৪, ১৯ ও ২১-কে যুক্ত করে 'স্বর্ণালী ত্রিভুজ' (Golden Triangle) প্রতিষ্ঠা করে। আদালত ঘোষণা করে যে 'জীবন' মানে কেবল পশুর মতো বেঁচে থাকা বা নিঃশ্বাস নেওয়া নয়—এর অর্থ 'পূর্ণ মানবিক মর্যাদার সাথে বেঁচে থাকার অধিকার'। এছাড়া যে আইনের মাধ্যমে স্বাধীনতা সীমিত করা হবে, সেই আইনটিকে অবশ্যই 'ন্যায্য, নিরপেক্ষ ও যুক্তিসঙ্গত' (Just, Fair and Reasonable) হতে হবে। সুপ্রিম কোর্ট ধারা ২১-এর ভেতর ৩৫টিরও বেশি অলিখিত মৌলিক অধিকারকে স্বীকৃতি দিয়েছে—যার মধ্যে রয়েছে গোপনীয়তার অধিকার (পুট্টাস্বামী, ২০১৭), জরুরি চিকিৎসার অধিকার (পরমানন্দ কাটার, ১৯৮৯), জীবিকা ও বাসস্থানের অধিকার (ওলগা টেলিস, ১৯৮৫), পরিচ্ছন্ন বাতাস ও পানীয় জলের অধিকার, দ্রুত বিচার ও বিনামূল্যে আইনি সহায়তা (হুসেনআরা খাতুন, ১৯৭৯), বিনা কারণে হাতকড়া পরানো ও হেফাজতে নির্যাতন থেকে মুক্তি এবং মর্যাদার সাথে মৃত্যুর অধিকার (Living Will)।

অনুচ্ছেদ 21A মৌলিক অধিকার — নাগরিক সুরক্ষা কবচ
Part III

শিক্ষার অধিকার (৬ থেকে ১৪ বছর বয়সী শিশুদের বিনামূল্যে ও বাধ্যতামূলক শিক্ষা)

শুরুতে শিক্ষার বিষয়টি নির্দেশমূলক নীতিতে (ধারা ৪৫) থাকলেও, 'উন্নি কৃষ্ণন (১৯৯৩)' রায়ের পর সংসদ ২০০২ সালে ৮৬তম সংবিধান সংশোধনী পাস করে ধারা ২১A-কে সরাসরি মৌলিক অধিকারে উন্নীত করে। একে বাস্তবায়িত করতে প্রণীত হয় 'শিক্ষার অধিকার আইন (RTE Act), ২০০৯'। এখানে 'বিনামূল্যে' শব্দের অর্থ হলো সরকারি স্কুলে ৬ থেকে ১৪ বছর বয়সী কোনো শিশুর কাছ থেকে টিউশন ফি, বইপত্র, পোশাক বা মিড-ডে মিলের জন্য কোনো অর্থ নেওয়া যাবে না। আর 'বাধ্যতামূলক' শব্দের মাধ্যমে সরকারের ওপর আইনি দায়িত্ব অর্পণ করা হয়েছে যেন প্রতিটি পাড়ার ১ থেকে ৩ কিলোমিটারের মধ্যে উপযুক্ত স্কুল থাকে এবং সমস্ত বেসরকারি (প্রাইভেট) স্কুলের প্রারম্ভিক শ্রেণিতে ২৫% আসন দরিদ্র ও পিছিয়ে পড়া (EWS/DG) পরিবারের শিশুদের জন্য সম্পূর্ণ বিনামূল্যে সংরক্ষিত থাকে।

অনুচ্ছেদ 22 মৌলিক অধিকার — নাগরিক সুরক্ষা কবচ
Part III

গ্রেফতার ও আটকের বিরুদ্ধে সাংবিধানিক সুরক্ষা (২৪ ঘণ্টার ম্যাজিস্ট্রেট নিয়ম)

ধারা ২২ হলো থানার ভেতরে সাধারণ নাগরিকের সবচেয়ে বড় রক্ষাকবচ। এটি নিশ্চিত করে যে পুলিশ 'জিজ্ঞাসাবাদের' অজুহাতে কাউকে গোপনে তুলে নিয়ে গিয়ে অনির্দিষ্টকাল লকআপে আটকে রাখতে পারবে না। ধারা ২২(১) এবং ২২(২) প্রতিটি সাধারণ গ্রেফতারের ক্ষেত্রে তিনটি অলঙ্ঘনীয় নিয়ম বেঁধে দিয়েছে: ১. গ্রেফতারের কারণ জানার অধিকার (ধারা ২২(১)): গ্রেফতারের সাথে সাথে পুলিশকে অবশ্যই জানাতে হবে কোন অপরাধে ও কী কারণে আপনাকে গ্রেফতার করা হচ্ছে (সুপ্রিম কোর্টের পঙ্কজ বনসল ২০২৩ ও প্রবীর পুরকায়স্থ ২০২৪ রায় অনুযায়ী লিখিতভাবে কারণ জানানো বাধ্যতামূলক)। ২. পছন্দের আইনজীবীর পরামর্শ ও আত্মপক্ষ সমর্থনের অধিকার (ধারা ২২(১)): হেফাজতে নেওয়ার প্রথম মুহূর্ত থেকেই নিজের আইনজীবীর সাথে কথা বলার পূর্ণ অধিকার আপনার রয়েছে। ৩. ২৪ ঘণ্টার ম্যাজিস্ট্রেট নিয়ম (ধারা ২২(২)): গ্রেফতারকৃত ব্যক্তিকে যাতায়াতের সময় বাদে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে নিকটবর্তী জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে হাজির করা বাধ্যতামূলক। ম্যাজিস্ট্রেটের লিখিত আদেশ ছাড়া ২৪ ঘণ্টার বেশি থানায় আটকে রাখা সম্পূর্ণ বেআইনি আটক (Illegal Detention)। এছাড়া ধারা ২২(৪)–২২(৭) নিবর্তনমূলক আটক (Preventive Detention)-এর ক্ষেত্রেও কড়া শর্ত আরোপ করে: হাইকোর্টের বিচারপতিদের নিয়ে গঠিত অ্যাডভাইজরি বোর্ডের অনুমোদন ছাড়া কাউকে ৩ মাসের বেশি আটক রাখা যায় না।

অনুচ্ছেদ 23 মৌলিক অধিকার — নাগরিক সুরক্ষা কবচ
Part III

মানব পাচার ও বেগার শ্রম (জবরদস্তিমূলক শ্রম) নিষিদ্ধকরণ

অনুচ্ছেদ ২৩ ক্রীতদাস প্রথা, মানব পাচার এবং জবরদস্তিমূলক শ্রমের বিরুদ্ধে সুরক্ষা দেয়। ন্যূনতম মজুরির চেয়ে কম টাকা দিয়ে কাউকে কাজ করানো বা ঋণের দায়ে আটকে রাখা সংবিধানে দণ্ডনীয় অপরাধ।

অনুচ্ছেদ 24 মৌলিক অধিকার — নাগরিক সুরক্ষা কবচ
Part III

কলকারখানা ও ঝুঁকিপূর্ণ কাজে শিশুশ্রম নিষিদ্ধকরণ

অনুচ্ছেদ ২৪ শিশু অধিকারের রক্ষাকবচ। এটি ১৪ বছরের কম বয়সী শিশুদের বিপজ্জনক কাজ ও কলকারখানায় খাটানো নিষিদ্ধ করে। শিশুদের স্কুলে যাওয়ার অধিকার সুরক্ষিত করাই এর মূল উদ্দেশ্য।

অনুচ্ছেদ 25 মৌলিক অধিকার — নাগরিক সুরক্ষা কবচ
Part III

বিবেকের স্বাধীনতা এবং অবাধে ধর্ম গ্রহণ, আচরণ ও প্রচারের অধিকার

অনুচ্ছেদ ২৫ ভারতীয় ধর্মনিরপেক্ষতার মূল ভিত্তি। এটি প্রতিটি ব্যক্তিকে তার নিজস্ব বিবেক ও বিশ্বাস অনুযায়ী ধর্ম পালনের স্বাধীনতা দেয়। ভারত রাষ্ট্র সকল ধর্মকে সমদৃষ্টিতে দেখে ও সমান আইনি সুরক্ষা দেয়।

অনুচ্ছেদ 26 মৌলিক অধিকার — নাগরিক সুরক্ষা কবচ
Part III

ধর্মীয় কার্যাবলী ও প্রতিষ্ঠান পরিচালনার স্বাধীনতা

ধারা ২৫ যেখানে ব্যক্তিগত ধর্মীয় স্বাধীনতা রক্ষা করে, ধারা ২৬ সেখানে ধর্মীয় সম্প্রদায় ও গোষ্ঠীর সমষ্টিগত অধিকার রক্ষা করে। জনশৃঙ্খলা, নৈতিকতা ও স্বাস্থ্যের সাপেক্ষে প্রতিটি ধর্মীয় সম্প্রদায়কে ধর্মীয় ও দাতব্য প্রতিষ্ঠান স্থাপন, নিজস্ব ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান পরিচালনা এবং আইন অনুযায়ী সম্পত্তি পরিচালনার অধিকার দেওয়া হয়েছে।

অনুচ্ছেদ 27 মৌলিক অধিকার — নাগরিক সুরক্ষা কবচ
Part III

কোনো বিশেষ ধর্মের প্রসারের জন্য কর প্রদানে বাধ্য না করার স্বাধীনতা

ধারা ২৭ হলো ভারতীয় ধর্মনিরপেক্ষতার আর্থিক স্তম্ভ। এটি নিশ্চিত করে যে সকল ধর্মের নাগরিকদের কাছ থেকে সংগৃহীত সরকারি করের টাকা কোনো একটি বিশেষ ধর্মের প্রচার বা পোষণের জন্য বরাদ্দ করা যাবে না। তবে তীর্থযাত্রীদের নিরাপত্তা, স্বাস্থ্য ও ভিড় নিয়ন্ত্রণের জন্য সংগৃহীত 'পরিষেবা ফি' (Fee) কর হিসেবে গণ্য হয় না।

অনুচ্ছেদ 28 মৌলিক অধিকার — নাগরিক সুরক্ষা কবচ
Part III

নির্দিষ্ট কিছু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ধর্মীয় শিক্ষা বা উপাসনায় উপস্থিত থাকার বিষয়ে স্বাধীনতা

ধারা ২৮ শ্রেণিকক্ষকে ধর্মনিরপেক্ষ ও সর্বজনীন রাখে। ধারা ২৮(১) অনুযায়ী, সম্পূর্ণ সরকারি অর্থে পরিচালিত কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কোনো ধর্মীয় শিক্ষা দেওয়া যাবে না। ধারা ২৮(৩) অনুযায়ী, রাষ্ট্র কর্তৃক স্বীকৃত বা সরকারি অনুদানপ্রাপ্ত কোনো স্কুলে কোনো শিক্ষার্থীকে তার (বা অপ্রাপ্তবয়স্ক হলে তার অভিভাবকের) সম্মতি ছাড়া কোনো ধর্মীয় উপাসনা বা ধর্মীয় ক্লাসে অংশ নিতে বাধ্য করা যাবে না।

পাবলিক ডোমেইন (Public Domain) ও বিধিবদ্ধ প্রামাণিকতা বিজ্ঞপ্তি

ভারতীয় কপিরাইট আইন, ১৯৫৭-এর ধারা ৫২(১)(কিউ) অনুযায়ী ভারতের সংবিধান, সংসদের আইন, সরকারি গেজেট এবং সুপ্রিম কোর্ট ও হাইকোর্টের রায়সমূহ পাবলিক ডোমেইনের (Public Domain) অন্তর্ভুক্ত। এই পাঠ্যটি ভারত সরকারের আইন ও বিচার মন্ত্রকের লেজিসলেটিভ ডিপার্টমেন্টের (India Code) সরকারি আর্কাইভ থেকে সংগৃহীত।

EN-IN • STUDIO VOICE
Preparing studio neural voice...